ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা, তাই চাষাবাদে বাঁধা, দুই বছর অনাবাদি ৬ একর জমি। তজুমদ্দিনে কিশোরীদের সচেতন করতে গাল গাইড-স্কাউটদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ভেনিসে বাঁধন মোস্তাফিজের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ বলছে জনরাষ্ট্র আন্দোলন সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম মানবেন কি না, সিদ্ধান্ত এবার ব্যবহারকারীদের হাতে ছাড়ছে অস্ট্রেলিয়া ইংলিশ কাউন্টিতে হাসান-খালেদের পেস ঝড়: কেন্টের জার্সিতে ইতিহাস গড়ছেন বাংলাদেশি পেসাররা সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি: স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য সাতক্ষীরায় মাদকসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার: দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী চমেক হাসপাতালের মেঝেতে রোগীর চরম দুর্দশা: মাথার ওপর ঝুলছে ঝুঁকিপূর্ণ মাল্টিপ্লাগ ও বৈদ্যুতিক তার নেপালের নুওয়াকোটে ভয়াবহ বন্যা: ধ্বংসস্তূপে ৮২ বছরের মাকে খুঁজছেন ছেলে বিষ্ণু পান

ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা, তাই চাষাবাদে বাঁধা, দুই বছর অনাবাদি ৬ একর জমি।

বাংলাদেশ সংলাপ ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছেলে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে ৬ একর জমি চাষাবাদে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই বছর ধরে অনাবাদি রয়েছে এসব জমি। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভূক্তভোগী আবদুল খালেক এর প্রতিকার চেয়ে ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।

আবদুল খালেক বলেন, বড় বালিয়াতলী মৌজার এসএ ৩৯, ৪০, ৪২, ৪৪ নং খতিয়ানের ৪৯৫ নং দলিল সহ অপর ৯ কেত্তা দলিল মূলে তিনি, তার ভাই, তার স্ত্রী এবং ছেলেদের নামে মোট ৫.৭৫০০ একর জমি ক্রয় সূত্রে মালিক। এসব জমি তাদের নামে ৬৫, ৬৫ এবং ৩৩১ নং খতিয়ানে শুদ্ধমতে বিএস রেকর্ড হয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে তার পিতা বাদশা মিয়া এবং তিনি এসব জমি ভোগ দখল করে আসছেন। তার বড় ছেলে শামীম-আল-সাইফুল সোহাগ কার্যক্রম নিষদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাই ২৪ এর গন অভ্যুত্থানের পর এসব জমিতে চাষাবাদে বাঁধা দেয় একই এলাকার নজরুল ইসলাম নকু, হানিফ মিয়া, বশির মুন্সী ও সোহেল মুন্সি। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সালিশ মিমাংসার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসার জন্য বেশ কয়েকবার সময় নির্ধারন করা হলেও নজরুল ইসলাম নকু গং সালিশে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে এসব জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। বর্তমানে এসব জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে নকু গং। সর্বশেষ কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তিনি কলাপাড়া থানায় নজরুল ইসলাম নকুসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বড় বালিয়াতলী গ্রামের দেলোয়ার মৃধা বলেন, আমরা একেবারে ছোট সময় থেকে দেখে আসছি এসব জমি আব্দুল খালেক চাচা চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু ২৪ সালের পর এসব জমি চাষাবাদে নজরুল ইসলাম নকু গং বাধা দেয় এবং এখন পর্যন্ত এসব জমি অনাবাদি রয়েছে। একই এলাকার মো. নেছার বলেন, প্রায় ৫০ বছরে বেশি সময় ধরে এসব জমি আমরা দেখে আসছি খালেক মিয়া চাষ করছেন। কিন্তু এখন তাকে এসব জমি চাষে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যার কারনে জমিগুলো খিল (অনাবাদি) পড়ে আছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমি ১৪ মাস করাভোগ করেছি। এসময় আমার বাবাকে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি চাষাবাদে বাঁধা দেয়। তাদের আসল কোন কাগজপত্র নেই। তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের ৫ একরের বেশি জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে নজরুল ইসলাম নকু বলেন, আমার দাদা আমির হোসেন কাছ থেকে মেয়াদী পাট্টা হিসেবে খালেক, আমানউল্লাহ মাস্টার , সালাম, দেলোয়ারের নামে কাগজপত্র দেওয়া হয়। অনেক আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে জমিটি ফেরত চাইতে গেলে তার ছেলে সোহাগ যুবলীগ নেতা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমিটি ভোগ দখল করে এবং আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে এই জমিটি আমি চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হাজী সমাধান করে দেবে আশ্বাসে জমিটির চাষাবাদ করিনি। তাদেরকেও এই জমিটি চাষাবাদ করতে দেয়নি। কিন্তু আমি তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করিনি এবং তাদের উচ্ছেদেরও হুমকি দেইনি। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তবে আমার বিরুদ্ধে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

কিন্তু আমি তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করিনি এবং তাদের উচ্ছেদেরও হুমকি দেইনি। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তবে আমার বিরুদ্ধে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইলাম বলেন,আদালতে মামলা চলমান থাকলে এ জমির বিষয় নিষ্পত্তি আদালতে হবে। তবে এ বিষয় নিয়ে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেপালের নুওয়াকোটে ভয়াবহ বন্যা: ধ্বংসস্তূপে ৮২ বছরের মাকে খুঁজছেন ছেলে বিষ্ণু পান

08 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
BD Songlap। বাংলাদেশ সংলাপ
www.bangladeshsonglap.com

ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা, তাই চাষাবাদে বাঁধা, দুই বছর অনাবাদি ৬ একর জমি।

আপডেট সময় : ১২:২৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছেলে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে ৬ একর জমি চাষাবাদে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই বছর ধরে অনাবাদি রয়েছে এসব জমি। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভূক্তভোগী আবদুল খালেক এর প্রতিকার চেয়ে ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।

আবদুল খালেক বলেন, বড় বালিয়াতলী মৌজার এসএ ৩৯, ৪০, ৪২, ৪৪ নং খতিয়ানের ৪৯৫ নং দলিল সহ অপর ৯ কেত্তা দলিল মূলে তিনি, তার ভাই, তার স্ত্রী এবং ছেলেদের নামে মোট ৫.৭৫০০ একর জমি ক্রয় সূত্রে মালিক। এসব জমি তাদের নামে ৬৫, ৬৫ এবং ৩৩১ নং খতিয়ানে শুদ্ধমতে বিএস রেকর্ড হয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে তার পিতা বাদশা মিয়া এবং তিনি এসব জমি ভোগ দখল করে আসছেন। তার বড় ছেলে শামীম-আল-সাইফুল সোহাগ কার্যক্রম নিষদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাই ২৪ এর গন অভ্যুত্থানের পর এসব জমিতে চাষাবাদে বাঁধা দেয় একই এলাকার নজরুল ইসলাম নকু, হানিফ মিয়া, বশির মুন্সী ও সোহেল মুন্সি। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সালিশ মিমাংসার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসার জন্য বেশ কয়েকবার সময় নির্ধারন করা হলেও নজরুল ইসলাম নকু গং সালিশে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে এসব জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। বর্তমানে এসব জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে নকু গং। সর্বশেষ কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তিনি কলাপাড়া থানায় নজরুল ইসলাম নকুসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বড় বালিয়াতলী গ্রামের দেলোয়ার মৃধা বলেন, আমরা একেবারে ছোট সময় থেকে দেখে আসছি এসব জমি আব্দুল খালেক চাচা চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু ২৪ সালের পর এসব জমি চাষাবাদে নজরুল ইসলাম নকু গং বাধা দেয় এবং এখন পর্যন্ত এসব জমি অনাবাদি রয়েছে। একই এলাকার মো. নেছার বলেন, প্রায় ৫০ বছরে বেশি সময় ধরে এসব জমি আমরা দেখে আসছি খালেক মিয়া চাষ করছেন। কিন্তু এখন তাকে এসব জমি চাষে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যার কারনে জমিগুলো খিল (অনাবাদি) পড়ে আছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমি ১৪ মাস করাভোগ করেছি। এসময় আমার বাবাকে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি চাষাবাদে বাঁধা দেয়। তাদের আসল কোন কাগজপত্র নেই। তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের ৫ একরের বেশি জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে নজরুল ইসলাম নকু বলেন, আমার দাদা আমির হোসেন কাছ থেকে মেয়াদী পাট্টা হিসেবে খালেক, আমানউল্লাহ মাস্টার , সালাম, দেলোয়ারের নামে কাগজপত্র দেওয়া হয়। অনেক আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে জমিটি ফেরত চাইতে গেলে তার ছেলে সোহাগ যুবলীগ নেতা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমিটি ভোগ দখল করে এবং আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে এই জমিটি আমি চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হাজী সমাধান করে দেবে আশ্বাসে জমিটির চাষাবাদ করিনি। তাদেরকেও এই জমিটি চাষাবাদ করতে দেয়নি। কিন্তু আমি তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করিনি এবং তাদের উচ্ছেদেরও হুমকি দেইনি। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তবে আমার বিরুদ্ধে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

কিন্তু আমি তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করিনি এবং তাদের উচ্ছেদেরও হুমকি দেইনি। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তবে আমার বিরুদ্ধে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইলাম বলেন,আদালতে মামলা চলমান থাকলে এ জমির বিষয় নিষ্পত্তি আদালতে হবে। তবে এ বিষয় নিয়ে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card