চমেক হাসপাতালের মেঝেতে রোগীর চরম দুর্দশা: মাথার ওপর ঝুলছে ঝুঁকিপূর্ণ মাল্টিপ্লাগ ও বৈদ্যুতিক তার
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিত্র যেন এক স্থায়ী সংকটের প্রতিচ্ছবি। শয্যাসংকট ও রোগীর উপচে পড়া ভিড়ের কারণে প্রতিদিন শত শত মানুষকে মেঝে ও বারান্দায় ঠাঁই নিতে হয়। সম্প্রতি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মেডিসিন ও রেডিওলজি ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী করিডোরে এক ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে আবারও তীব্রভাবে উসকে দিয়েছে। দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে মাদুর কিংবা চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন ১০ থেকে ১২ জন রোগী। তাঁদেরই একজন জন্ডিসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী, যাঁর সেবায়েত হিসেবে পাশে রয়েছেন দুই স্বজন। কিন্তু সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, এই সাধারণ চলাচলের জায়গায় রোগীদের মাথার ঠিক ওপরে পিলারের সঙ্গে স্যালাইনের পাইপ দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একটি মাল্টিপ্লাগ। সেই মূল মাল্টিপ্লাগ থেকে আবার অতিরিক্ত সংযোগ বা এক্সটেনশন নিয়ে চালানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক পাখা এবং জীবনরক্ষাকারী নেবুলাইজার মেশিন।
তদন্তে জানা যায়, হাসপাতালের ভেতরের মেইন বোর্ড বা বৈদ্যুতিক লাইন থেকে দীর্ঘ তার টেনে এই মাল্টিপ্লাগগুলো ওয়ার্ডের বাইরে এনেছেন স্বজনেরা। তীব্র গরম আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেঝেতে শুয়ে থাকা রোগীরা সামান্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে নিজেদের টাকা দিয়ে টেবিল ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যান কিনে এনেছেন। কিন্তু করিডোরে বা মেঝেতে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক সকেট না থাকায় নিরুপায় হয়ে তারা ওয়ার্ডের ভেতর থেকে অবৈধ ও অনিরাপদ উপায়ে এই বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েছেন। একটি মাল্টিপ্লাগের সঙ্গে আরেকটি মাল্টিপ্লাগ যুক্ত করে মাকড়সার জালের মতো তার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের শর্টসার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসালয়ের মতো জনবহুল স্থানে এভাবে উন্মুক্ত ও ওভারলোডেড বৈদ্যুতিক তার ঝুলিয়ে রাখা রোগী, চিকিৎসক এবং দর্শনার্থী সবার জন্যই চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি থাকায় অনেককেই বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে রাখতে হয়। তবে বৈদ্যুতিক এই সংযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অননুমোদিত এবং বিপজ্জনক। হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, রোগীর স্বজনেরা না বুঝে নিজ দায়িত্বে বা অনেক সময় হাসপাতালের কিছু অসাধু ও নামমাত্র কর্মচারীকে বকশিশ দিয়ে এই সংযোগগুলো করিয়ে থাকেন। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, শয্যার ঘাটতি থাকলেও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা কার্পণ্য করেন না। তবে সাধারণ মানুষ না বুঝেই যে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বৈদ্যুতিক তারের জাল তৈরি করেছে, তা রোধে খুব দ্রুত কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল অভিযান চালিয়েই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শয্যা নিশ্চিতকরণ এবং রোগীদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় কঠোর মনিটরিং সেল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।

















