ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় ২০ দিনের কারাভোগ করলেন নিরপরাধ জলিল। কবি-সাহিত্যিকদের একত্রিত করে কাব্যগ্রন্থ কবিতা কানন বইটি প্রকাশ পটুয়াখালী ভার্সিটির, ফিন্যান্স ক্লাবের উদ্বোধন ও নবীনবরণ। তজুমদ্দিনে বজ্রপাতের ভয়াবহ আঘাত, নিহত কৃষক লালমনিরহাটে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। রাজশাহীতে বিভাগীয় সম্মেলন জিয়া মঞ্চ অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ যুবক গ্রেপ্তার। কলাপাড়ায় ২১ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার কলাপাড়ায় জাল-জালিয়াতির অভিযোগে কাজী কারাগারে। সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ অভিযান: র‍্যাব মহাপরিচালক।

বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় ২০ দিনের কারাভোগ করলেন নিরপরাধ জলিল।

বাংলাদেশ সংলাপ ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কেবলমাত্র বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিনাদোষে ২০ দিন কারা ভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন জলিল হাওলাদার নামের এক নিরাপরাধ ব্যক্তি। সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক নির্দোষ ব্যক্তির ঘটনা অবহিত হয়ে তাকে জামিন প্রদান করেন। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা। একই সঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে ওসি মহিপুর থানা ও মামলার বাদী পক্ষকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত এ কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।

এই বিজ্ঞ আইনজীবী জানান, কেবলমাত্র ওয়ারেন্টে আসামীর নাম বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এর দায়ভার সম্পূর্ণ পুলিশের। তিনি বলেন, গ্রামের একজন লেখাপড়া না জানা সহজ সরল মানুষকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এবং নিরপরাধ এই মানুষটি দীর্ঘ ২০ টি দিন কারাভোগ করেছেন। এর দায় মহিপুর থানা পুলিশ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

মামলার বিবরণের উদ্ধৃতি দিয়ে হুমায়ুন কবির বাদশা আরও জানান,২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়ার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী।

এ মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট নাম ও বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় একই গ্রামের জলিল হাওলাদারকে মহিপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু মূল আসামি দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। এমনকি নির্দোষ মানুষটির মায়ের নামটিও যাছাই করা হয়নি। যেখানে মায়ের নামে অমিল রয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার ব্যক্তি একজন নন। তাদের নাম বাবার নাম এবং গ্রামের নাম এক হলেও মায়ের নাম ভিন্ন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে, যে মামলার সঙ্গে তাঁর আদৌ কোন সম্পৃক্ততাই নেই।

এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ , ঠিক কার ভুলে একজন সহজ সরল প্রকৃতির নির্দোষ মানুষকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে? এ দায় কার কার এবং রাষ্ট্রপক্ষ কি আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে।

এবিষয়ে মহিপুর থানার ওসি শামিম হাওলাদার ক জানান, বিজ্ঞ আদালতের পাঠানো গ্রেফতারী পরোয়ানায় আসামিকে গ্রেফতার করেছেন এসআই শহীদুল। তবে আসামির নামের সঙ্গে এবং বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরোয়ানায় ছবি কিংবা মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এ ভূল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে ওয়ারেন্ট তামিলে ভবিষ্যতে যাতে কোন ভুল না হয় তাই আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় ২০ দিনের কারাভোগ করলেন নিরপরাধ জলিল।

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কেবলমাত্র বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিনাদোষে ২০ দিন কারা ভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন জলিল হাওলাদার নামের এক নিরাপরাধ ব্যক্তি। সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক নির্দোষ ব্যক্তির ঘটনা অবহিত হয়ে তাকে জামিন প্রদান করেন। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা। একই সঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে ওসি মহিপুর থানা ও মামলার বাদী পক্ষকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত এ কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।

এই বিজ্ঞ আইনজীবী জানান, কেবলমাত্র ওয়ারেন্টে আসামীর নাম বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এর দায়ভার সম্পূর্ণ পুলিশের। তিনি বলেন, গ্রামের একজন লেখাপড়া না জানা সহজ সরল মানুষকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এবং নিরপরাধ এই মানুষটি দীর্ঘ ২০ টি দিন কারাভোগ করেছেন। এর দায় মহিপুর থানা পুলিশ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

মামলার বিবরণের উদ্ধৃতি দিয়ে হুমায়ুন কবির বাদশা আরও জানান,২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়ার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী।

এ মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট নাম ও বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় একই গ্রামের জলিল হাওলাদারকে মহিপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু মূল আসামি দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। এমনকি নির্দোষ মানুষটির মায়ের নামটিও যাছাই করা হয়নি। যেখানে মায়ের নামে অমিল রয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার ব্যক্তি একজন নন। তাদের নাম বাবার নাম এবং গ্রামের নাম এক হলেও মায়ের নাম ভিন্ন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে, যে মামলার সঙ্গে তাঁর আদৌ কোন সম্পৃক্ততাই নেই।

এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ , ঠিক কার ভুলে একজন সহজ সরল প্রকৃতির নির্দোষ মানুষকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে? এ দায় কার কার এবং রাষ্ট্রপক্ষ কি আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে।

এবিষয়ে মহিপুর থানার ওসি শামিম হাওলাদার ক জানান, বিজ্ঞ আদালতের পাঠানো গ্রেফতারী পরোয়ানায় আসামিকে গ্রেফতার করেছেন এসআই শহীদুল। তবে আসামির নামের সঙ্গে এবং বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরোয়ানায় ছবি কিংবা মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এ ভূল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে ওয়ারেন্ট তামিলে ভবিষ্যতে যাতে কোন ভুল না হয় তাই আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।