কলাপাড়ায় ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব যেমন হওয়া উচিত
- আপডেট সময় : ১১:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
ছাত্র রাজনীতি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সূতিকাগার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে ছাত্র রাজনীতি অনেক সময় সহিংসতা, বিভাজন ও সংঘাতের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এই সংকট উত্তরণে প্রয়োজন দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক—বিশেষ করে কলাপাড়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জনপদে।
কলাপাড়ায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু ভিন্নতার এই জায়গাটি যেন কখনোই শত্রুতা বা সংঘর্ষে রূপ না নেয়—সেটিই হওয়া উচিত আমাদের সবার অঙ্গীকার। মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন, যুক্তিনির্ভর ও সহনশীল।
ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান। সেশনজট, আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, শিক্ষা পরিবেশের অবনতি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার মতো ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে সব ছাত্র সংগঠনের একসাথে কথা বলা জরুরি। ছাত্র স্বার্থে ঐক্যই পারে ছাত্র রাজনীতিকে অর্থবহ করে তুলতে।
সহিংসতা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ছাত্র রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। বরং এসব অপচর্চার বিরুদ্ধে কলাপাড়ার সব ছাত্র সংগঠনের উচিত যৌথ ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক রাজনীতিই পারে শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ ও সুন্দর রাখতে।
এ ছাড়া সামাজিক ও মানবিক কাজ—দুর্যোগকালীন সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো—এ ধরনের উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে। রাজনীতির বাইরেও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই সুস্থ ছাত্র রাজনীতির পরিচায়ক।
একজন ছাত্রনেতা হিসেবে আমাদের আচরণ, ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি পুরো প্রজন্মকে প্রভাবিত করে। তাই শালীনতা, সংযম ও দায়িত্ববোধ বজায় রেখে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সময়ের দাবি।
পরিশেষে বলতে চাই, কলাপাড়ায় ছাত্র রাজনীতি যদি ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও ছাত্রস্বার্থভিত্তিক বন্ধুত্বের পথে এগোয়, তবে সেটিই হবে একটি সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী গণতন্ত্র গঠনের দৃঢ় ভিত্তি।
মোহাম্মাদ মুছা, সেক্রেটারি, ইসলামী ছাত্রশিবির কলাপাড়া উপজেলা শাখা।
শিক্ষার্থী- নাওভাঙ্গা ছালেহিয়া কামিল মাদ্রাসা এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ














