ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘কলাপাড়ায় শীঘ্রই পারিবারিক আদালত স্থাপন করা হচ্ছে’ কলাপাড়া উপজেলা বহুপক্ষীয় মাল্টিস্টেকহোল্ডার মৎস্যজীবী নেটওয়ার্ক এর দ্বি-মাসিক সভা কলাপাড়ায় নির্মম হত্যার পর খালের চড়ের মাটিতে পুতে রাখা হয় যুবকের লাশ কুয়াকাটায় প্রথমবার বৃহৎ পরিসরে রোবোটিকস বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অংশ নিল ১২০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সংলাপ’র প্রধান উপদেষ্টা রাজা মল্লিক কলাপাড়ায় আগমন উপলক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা চির নিদ্রায় শায়িত প্রথিতযশা সাংবাদিক জাহিদ রিপন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়….এবিএম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটায় ভাড়াবাসা থেকে গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হলি চাইল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ ইউএনও’র কাছ থেকে কম্বল পেয়ে খুশি আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ সদস্যরা

কলাপাড়ায় নির্মম হত্যার পর খালের চড়ের মাটিতে পুতে রাখা হয় যুবকের লাশ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের তিনদিন পর খালের চড়ের মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ফেরদৌস মুন্সি নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালি সাপুড়িয়া খালের পাড় থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ফেরদৌস মুন্সি ওই গ্রামের রহমান মুন্সির ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৯ টায় বাড়ি থেকে অসুস্থ বাবাকে দেখে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ফেরদৌস মুন্সি।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজা খুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। কিন্তু মাহিনুর নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ রোরবার বেলা ১১ টার দিকে মধুখালি সেতু সংলগ্ন সাপুড়িয়া খালের পাড়ে কয়েকটি গাছের ডালের (গুড়ি) নিচে নতুন মাটি কাটার দৃশ্য দেখতে পান।

পরে ওই নারী নরম মাটি সরাতেই মরদেহের অংশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে স্থানীয়দের জানান।

স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওছার জাজান, পারিবারিক জমি বন্টন নিয়ে একটি সালিশ হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। কিন্তু ফেরদৌসের ফোন বন্ধ পেয়ে সবাই তার সন্ধানে নামে।

নিহতের বোন জানান, আমার ভাইয়ের কোন শত্রু ছিল না। তবে মৃত্যুর একদিন আগে তার জমানো একজনের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, আর আমার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে রেখেছিল ফেরদৌস। নিজে আলাদা ঘর নির্মাণ করে থাকার কথাও বলেছিলেন তার ভাই জাজান তিনি।

এছাড়া ফেরদৌস বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি বন,জঙ্গল থেকে মধু আহরণ করে আয় করতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে এসে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এটা একটি নির্মম হত্যাকান্ড। তিনি বলেন, মৃতের গলায় লাইলনের রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এবং রশিটি এখনও গলায় বাঁধা রয়েছে। বাম হাতের বুড়ো আঙুল কাটা রয়েছে।

এছাড়া তার পরনে একটি শর্টপ্যান্ট ও একটি গেঞ্জি পরিহিত ছিল। তাকে হত্যার পর মরদেহ গর্তে উপুড় করে রেখে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। আমরা সুরতহাল শেষে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্তে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়ায় নির্মম হত্যার পর খালের চড়ের মাটিতে পুতে রাখা হয় যুবকের লাশ

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের তিনদিন পর খালের চড়ের মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ফেরদৌস মুন্সি নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালি সাপুড়িয়া খালের পাড় থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ফেরদৌস মুন্সি ওই গ্রামের রহমান মুন্সির ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৯ টায় বাড়ি থেকে অসুস্থ বাবাকে দেখে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ফেরদৌস মুন্সি।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজা খুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। কিন্তু মাহিনুর নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ রোরবার বেলা ১১ টার দিকে মধুখালি সেতু সংলগ্ন সাপুড়িয়া খালের পাড়ে কয়েকটি গাছের ডালের (গুড়ি) নিচে নতুন মাটি কাটার দৃশ্য দেখতে পান।

পরে ওই নারী নরম মাটি সরাতেই মরদেহের অংশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে স্থানীয়দের জানান।

স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওছার জাজান, পারিবারিক জমি বন্টন নিয়ে একটি সালিশ হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। কিন্তু ফেরদৌসের ফোন বন্ধ পেয়ে সবাই তার সন্ধানে নামে।

নিহতের বোন জানান, আমার ভাইয়ের কোন শত্রু ছিল না। তবে মৃত্যুর একদিন আগে তার জমানো একজনের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, আর আমার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে রেখেছিল ফেরদৌস। নিজে আলাদা ঘর নির্মাণ করে থাকার কথাও বলেছিলেন তার ভাই জাজান তিনি।

এছাড়া ফেরদৌস বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি বন,জঙ্গল থেকে মধু আহরণ করে আয় করতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে এসে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এটা একটি নির্মম হত্যাকান্ড। তিনি বলেন, মৃতের গলায় লাইলনের রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এবং রশিটি এখনও গলায় বাঁধা রয়েছে। বাম হাতের বুড়ো আঙুল কাটা রয়েছে।

এছাড়া তার পরনে একটি শর্টপ্যান্ট ও একটি গেঞ্জি পরিহিত ছিল। তাকে হত্যার পর মরদেহ গর্তে উপুড় করে রেখে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। আমরা সুরতহাল শেষে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্তে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখব।