খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বেশ কয়েকটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনাটি এলাকায় টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। ওই শিক্ষককে নিয়ে অনেকেই তার পক্ষে বিপক্ষে কমেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট দিচ্ছেন। তবে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরী বলে দাবি করছেন শিক্ষক আনোয়ার।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে মাসুম আহমেদ মীরা নামের একটি ফেসবুক ও টেলিগ্রাম থেকে ওই শিক্ষকের বেশ কয়েকটি অশ্লীল ভিডিও পোষ্ট করা হয়। মুহুর্তেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষক ভিডিও কলে অশ্লীল যৌন অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করছেন। তবে ভিডিওর অপরপ্রান্তে কে ছিলেন সেটা প্রকাশ করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকেই বলেছেন, ‘প্রধান শিক্ষকের এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এখন আর তাঁর সামনে গিয়ে মুখ দেখাতে আমাদের লজ্জা করে। নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা দ্রুত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চাই।’
বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘শিক্ষক জাতির মেরুদন্ড এ কথা আমরা জানি। সেখানে একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে কীভাবে অনৈতিক কাজ করেন? আবার সেসব যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তখন পরিস্থিতিটা আরও খারাপ হয়। প্রধান শিক্ষকের এমন কুরুচিপূর্ণ কাজের জন্য তাঁর আর নিজ পদে থাকার যোগ্যতা নাই। অবশ্যই এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ভাইরাল ভিডিওগুলো এআই দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে। তিনি ওই ভিডিওর ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাউছার হামিদ এ প্রসংগে বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক ভিডিওটি দেখেছি। ইতিমধ্যে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়কে দুই বার ফোন করে এ ঘটনা জানিয়েছি। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের এ ঘটনার বিষয়টি নিয়ে আমি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডকে লিখিতভাবেও জানিয়েছি। আমি মনে করি, প্রধান শিক্ষক হিসেবে এ ঘটনার পর তিনি নিজ যোগ্যতা হারিয়েছেন। অবশ্যই তাঁকে এ পদ থেকে দ্রুত অপসারণ করা হবে।’ এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমি প্রধান শিক্ষকের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত দল গঠন করেছিলাম। তদন্ত দল সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেসব অনিয়মের বিষয় আমি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি।















