ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
 কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল কলাপাড়ায় ধর্ষন চেষ্টায় অভিযুক্তকে ৫০ জুতার বাড়ি ও ৫ হাজারে সমঝোতা খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা: নারীর দুই হাত ভাঙার অভিযোগ। কলাপাড়ায় বিয়ে করতে গিয়েও দিতে হল চাঁদা, অভিযোগ যুবদল নেতা দেলোয়ার মৃধার বিরুদ্ধে। কলাপাড়ায তরমুজ খেত নষ্ট করায় ছাগল ধরে পুলিশে দিল কৃষক  হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেফতার

কলাপাড়া থেকে এক যুগ পরে বদলি হওয়া ডাক্তার  লেলিনের দুর্নীতির তদন্ত শুরু 

বাংলাদেশ সংলাপ, নিউজ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জুনায়েদ হোসেন লেলিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার হাতে প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অবরুদ্ধদশা থেকে উদ্ধারে সহায়তা করেন।  গতকাল শনিবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসের এ ঘটনায় তোলপাড়া শুরু হয়। শতাধিক ছাত্রজনতা এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এনসিপি নেতা আল ইমরানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা শাফি কামাল, মোস্তাফিজুর রহমান ও একাধিক ভুক্তভোগী ডাঃ লেলিনের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে কলাপাড়া থেকে অপসারণের দাবিতে ২০২৫ সালের ১৪ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে আজ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে কলাপাড়া হাসপাতালে তদন্তে আসেন। এই খবরে ভুক্তভোগীসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ডাঃ লেলিনকে অবরুদ্ধ করেন। এসময় ছাত্র নেতৃবৃন্দ ডাঃ লেলিনকে বিগত স্বৈরাচারের দোষর হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। স্লোগান দেন। বিক্ষোভ করেন। ঘটনাস্থলে থাকা 

কলাপাড়া থানার এসআই মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাকে গ্রেফতারের সুযোগ নাই। 

অভিযোগকারী এনসিপি পটুয়াখালী জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য আল ইমরান জানান, ডাঃ জুনায়েদ হোসেন লেলিন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কলাপাড়ায় চাকরি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি আর অনিয়ম, কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহার গড়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একই জখমী রোগীকে দুই ধরনের সনদ দেওয়া, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুসহ বিভিন্ন অভিযোগ, একাধিক ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে তোলার অভিযোগ সংবলিত লিখিতি আবেদন করার প্রেক্ষিতে তাকে পহেলা জুলাই কলাপাড়া থেকে নাটোরের পাহারতলীতে বদলী করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে সে ছুটির দিন ছাড়াও কলাপাড়ায় এসে চিকিৎসা বাণিজ্য করছেন। 

ইমরান জানান, সারা দেশে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন (৪ আগস্ট-২০২৪) তার ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন ( দে দে মরণ কামড় দে আর দেরী করিসনা। অস্তিত্বে বাংলাদেশ শেখ হাসিনা)। হাসিনার পতনের পরে এই ফ্যাসিস্ট দোসরকে পদোন্নতি দিয়ে কলাপাড়ায় পদায়ন করা হয়। এরপর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ভুক্তভোগী মানুষকে নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করতে থাকেন। শহরজুড়ে পোস্টারিং করা হয়েছে।

ইমরান আরো বলেন, ‘ আমরা এই দুর্নীতিবাজ চিকিৎসকের জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের কপি, দুর্নীতি ও মামলার কপি, সরকারি জমি দখল ও বিক্রির ডকুমেন্ট্স, উল্লেখযোগ্য মামলার পিবিআইর প্রতিবেদন, মেডিকেল সনদের দুর্নীতির কপি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপির অনুলিপিসহ অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার হিসাব। অবৈধ সম্পদের একটি বিবরণীসহ ৬৬ পৃষ্ঠা সংবলিত একটি অভিযোগ দেই। যার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। আজ সকালে এই কমিটির প্রধান পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন সরকার ও সদস্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার সরেজিমেন তদন্তের জন্য কলাপাড়ায় আসেন। এসময় তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ জুনায়েদ হোসেন লেলিন উপস্থিত ছিলেন। 

ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার জানান, তারা অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছেন।  বর্তমানে পুরো কলাপাড়া জুড়ে ডাঃ লেলিনের বিষয়টি আলোচিত রয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠকরা অনেকেই এই তদন্তকে যথাযথ মনে করছেন না।

অবশ্য অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ জেএইচ লেলিন বরাবর বলে আসছেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়া থেকে এক যুগ পরে বদলি হওয়া ডাক্তার  লেলিনের দুর্নীতির তদন্ত শুরু 

আপডেট সময় : ১০:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জুনায়েদ হোসেন লেলিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার হাতে প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অবরুদ্ধদশা থেকে উদ্ধারে সহায়তা করেন।  গতকাল শনিবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসের এ ঘটনায় তোলপাড়া শুরু হয়। শতাধিক ছাত্রজনতা এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এনসিপি নেতা আল ইমরানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা শাফি কামাল, মোস্তাফিজুর রহমান ও একাধিক ভুক্তভোগী ডাঃ লেলিনের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে কলাপাড়া থেকে অপসারণের দাবিতে ২০২৫ সালের ১৪ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে আজ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে কলাপাড়া হাসপাতালে তদন্তে আসেন। এই খবরে ভুক্তভোগীসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ডাঃ লেলিনকে অবরুদ্ধ করেন। এসময় ছাত্র নেতৃবৃন্দ ডাঃ লেলিনকে বিগত স্বৈরাচারের দোষর হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। স্লোগান দেন। বিক্ষোভ করেন। ঘটনাস্থলে থাকা 

কলাপাড়া থানার এসআই মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাকে গ্রেফতারের সুযোগ নাই। 

অভিযোগকারী এনসিপি পটুয়াখালী জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য আল ইমরান জানান, ডাঃ জুনায়েদ হোসেন লেলিন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কলাপাড়ায় চাকরি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি আর অনিয়ম, কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহার গড়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একই জখমী রোগীকে দুই ধরনের সনদ দেওয়া, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুসহ বিভিন্ন অভিযোগ, একাধিক ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে তোলার অভিযোগ সংবলিত লিখিতি আবেদন করার প্রেক্ষিতে তাকে পহেলা জুলাই কলাপাড়া থেকে নাটোরের পাহারতলীতে বদলী করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে সে ছুটির দিন ছাড়াও কলাপাড়ায় এসে চিকিৎসা বাণিজ্য করছেন। 

ইমরান জানান, সারা দেশে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন (৪ আগস্ট-২০২৪) তার ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন ( দে দে মরণ কামড় দে আর দেরী করিসনা। অস্তিত্বে বাংলাদেশ শেখ হাসিনা)। হাসিনার পতনের পরে এই ফ্যাসিস্ট দোসরকে পদোন্নতি দিয়ে কলাপাড়ায় পদায়ন করা হয়। এরপর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ভুক্তভোগী মানুষকে নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করতে থাকেন। শহরজুড়ে পোস্টারিং করা হয়েছে।

ইমরান আরো বলেন, ‘ আমরা এই দুর্নীতিবাজ চিকিৎসকের জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের কপি, দুর্নীতি ও মামলার কপি, সরকারি জমি দখল ও বিক্রির ডকুমেন্ট্স, উল্লেখযোগ্য মামলার পিবিআইর প্রতিবেদন, মেডিকেল সনদের দুর্নীতির কপি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপির অনুলিপিসহ অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার হিসাব। অবৈধ সম্পদের একটি বিবরণীসহ ৬৬ পৃষ্ঠা সংবলিত একটি অভিযোগ দেই। যার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। আজ সকালে এই কমিটির প্রধান পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন সরকার ও সদস্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার সরেজিমেন তদন্তের জন্য কলাপাড়ায় আসেন। এসময় তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ জুনায়েদ হোসেন লেলিন উপস্থিত ছিলেন। 

ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার জানান, তারা অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছেন।  বর্তমানে পুরো কলাপাড়া জুড়ে ডাঃ লেলিনের বিষয়টি আলোচিত রয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠকরা অনেকেই এই তদন্তকে যথাযথ মনে করছেন না।

অবশ্য অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ জেএইচ লেলিন বরাবর বলে আসছেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।