ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক   ৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষির স্বর্গরাজ্য পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬  ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ পুরস্কার পেলেন কলাপাড়া থানার এএসআই জসিম আকন।

কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দুঃস্থ-হতদরিদ্রদের মাঝে সরকারের দেয়া বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের সিল ও স্বাক্ষর দেওয়া স্লিপ ব্যবহারের খবর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত দুইদিন ধরে এ নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। কেউ বলছেন, প্রভাব খাটিয়ে দরিদ্রদের চালে ভাগ বসানো হয়েছে। এমনটি অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দোকানপাটে, চায়ের দোকানেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব বিস্তারের কথা বলেছেন অনেকে। দলের নিজস্ব অনেক সমর্থকরা আবার এটি করা ঠিক হয়নি বলে তীর্যক মন্তব্যও করেছেন। 

তবে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেন দাবি করেছেন, তিনি দরিদ্রদের চাল যথাযথভাবে বিতরণের কাজে ইউনিয়ন পরিষদকে সহায়তা করছেন। এটি তার সরকারের (এমপি সাহেবের) বিশেষ বরাদ্দ, তাই এমনটি করেছেন। সরকারের দেয়া ওই চাল ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ছিল। তার স্বাক্ষর –

সিল দেয়া কাগজের স্লিপও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রবের মাধ্যমেই বিতরণ করার কথা বলেন। তোফাজ্জেল হোসেনের দাবি, তিনি বিশেষ ভিজিএফএর (বরাদ্দের) চাল বিতরণ কমিটির সদস্য। তিনি অন্তত ৩০০ স্লিপ দেয়ার কথা স্বীকার করেন। মূলত সঠিকভাবে বিতরণে নজরদারির কথা জানান তিনি। তবে আইনগতভাবে এটি ভুল হয়েছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি। তোফাজ্জেল হোসেন এও বলেন, ‘ মাননীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ কাজের জন্য এই স্লিপ ব্যবহার করেছি।’

উপজেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও টিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দি প্যাদা বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফের চাল দরিদ্র মানুষের মাঝে তালিকা করে সভাপতির সই-সিল দেয়া স্লিপ দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ঈদের ভিজিএফের চালের সঙ্গে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোকসেদুল আলম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার’) নির্দেশনা মতে বরাবরের মতো এবছর সরকার ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দুস্থ/অতিদরিদ্র ব্যক্তি/পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। যেখানে কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার জন্য ২৭ হাজার ৮৬৩টি পরিবারের জন্য সরকারি এই বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মধ্যে টিয়াখালী ইউনিয়নে ১৩৬৫ জনের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে চাল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। যেখানে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, ভিটাবাড়ি ছাড়া জমি নেই, দিনমজুরী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, মহিলা শ্রমিক, ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবীকা নির্বাহ করেন, যে পরিবারে উপার্জনক্ষম পুর্ণবয়ষ্ক কোন পুরুষ সদস্য নাই-এমন পরিবার/ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের জন্য সরকারিভাবে কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়নে ৪০ টন চাল দেওয়া হয়েছে- দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য। যেখানে চার হাজার পরিবার খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি 

আপডেট সময় : ০২:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দুঃস্থ-হতদরিদ্রদের মাঝে সরকারের দেয়া বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের সিল ও স্বাক্ষর দেওয়া স্লিপ ব্যবহারের খবর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত দুইদিন ধরে এ নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। কেউ বলছেন, প্রভাব খাটিয়ে দরিদ্রদের চালে ভাগ বসানো হয়েছে। এমনটি অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দোকানপাটে, চায়ের দোকানেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব বিস্তারের কথা বলেছেন অনেকে। দলের নিজস্ব অনেক সমর্থকরা আবার এটি করা ঠিক হয়নি বলে তীর্যক মন্তব্যও করেছেন। 

তবে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেন দাবি করেছেন, তিনি দরিদ্রদের চাল যথাযথভাবে বিতরণের কাজে ইউনিয়ন পরিষদকে সহায়তা করছেন। এটি তার সরকারের (এমপি সাহেবের) বিশেষ বরাদ্দ, তাই এমনটি করেছেন। সরকারের দেয়া ওই চাল ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ছিল। তার স্বাক্ষর –

সিল দেয়া কাগজের স্লিপও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রবের মাধ্যমেই বিতরণ করার কথা বলেন। তোফাজ্জেল হোসেনের দাবি, তিনি বিশেষ ভিজিএফএর (বরাদ্দের) চাল বিতরণ কমিটির সদস্য। তিনি অন্তত ৩০০ স্লিপ দেয়ার কথা স্বীকার করেন। মূলত সঠিকভাবে বিতরণে নজরদারির কথা জানান তিনি। তবে আইনগতভাবে এটি ভুল হয়েছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি। তোফাজ্জেল হোসেন এও বলেন, ‘ মাননীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ কাজের জন্য এই স্লিপ ব্যবহার করেছি।’

উপজেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও টিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দি প্যাদা বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফের চাল দরিদ্র মানুষের মাঝে তালিকা করে সভাপতির সই-সিল দেয়া স্লিপ দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ঈদের ভিজিএফের চালের সঙ্গে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোকসেদুল আলম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার’) নির্দেশনা মতে বরাবরের মতো এবছর সরকার ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দুস্থ/অতিদরিদ্র ব্যক্তি/পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। যেখানে কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার জন্য ২৭ হাজার ৮৬৩টি পরিবারের জন্য সরকারি এই বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মধ্যে টিয়াখালী ইউনিয়নে ১৩৬৫ জনের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে চাল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। যেখানে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, ভিটাবাড়ি ছাড়া জমি নেই, দিনমজুরী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, মহিলা শ্রমিক, ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবীকা নির্বাহ করেন, যে পরিবারে উপার্জনক্ষম পুর্ণবয়ষ্ক কোন পুরুষ সদস্য নাই-এমন পরিবার/ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের জন্য সরকারিভাবে কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়নে ৪০ টন চাল দেওয়া হয়েছে- দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য। যেখানে চার হাজার পরিবার খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন।