ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জমি দখলের বিষয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি কলাপাড়ায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার-১ ঠিকাদারির নামে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রণব শাখারি গোপাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কলাপাড়ায় “প্রাণ সংহতি” সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পায়রা বন্দরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল, রাসেল সম্পাদক নির্বাচিত হায়াতো ও মোকো এডিশন স্মার্টওয়াচ এবং হেডফোন আনল ওরাইমো বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৬ জেলেকে খুঁজতে নৌবাহিনীর ‘বানৌজা গোমতি’র উদ্ধার অভিযান মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষনার প্রস্তুতির খবরে উপকূলে উৎসবের আমেজ

জমি দখলের বিষয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কলাপাড়া পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিক্স লেন সড়কের সংলগ্ন নিজের মালিকানাধীন জমির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন নুরুজ্জামান কাফি।

সংবাদ সম্মেলনে কাফি জানান, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদে তাকে এবং তার রাজনৈতিক দল এনসিপিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেছেন, প্রচারিত সংবাদে বলা হয়েছে আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার জীবনে সম্ভবত দুই থেকে তিনবারের বেশি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়নি। আমি সবসময় অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। একজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই আসে না।

কাফির দাবি, প্রায় এক বছর আগে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে নিজের ছয় শতাংশ জমিতে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তখন প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

তিনি আরও জানান, আমি যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছি, তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের ৩০ থেকে ৪০ বছরের একটি মামলা চলমান ছিল। প্রায় এক বছর আগে তারা মামলায় রায় পান। সেই রায়ের ভিত্তিতেই তারা আমাকে চলাচলের জন্য রাস্তার জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া জায়গাতেই রাস্তা নির্মাণ করেছি, বিদ্যালয়ের কোনো জমিতে নয়।

জমির মালিক মো. সালাউদ্দিন নয়নও কাফির বক্তব্যের সমর্থন করে বলেছেন, আমরা কাফিকে ছয় শতাংশ জমি রাস্তা নির্মাণের জন্য দিয়েছি। বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন মামলা চলেছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমরা আমাদের পক্ষে রায় পেয়েছি। এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আগে বিদ্যালয় জমিটি ভোগদখলে রাখলেও মামলার রায়ের পর বর্তমানে আমরা দখলে আছি এবং সেখানে চাষাবাদ করছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নং-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত সপ্তাহে তাদের রেকর্ডভুক্ত জমির সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ছয় শতাংশ জমি দখল করে নুরুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। যদিও ওই জমির পাশেই কাফির রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তিগত জমি রয়েছে।

খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন , বিতর্কিত জমিটি বিদ্যালয়ের ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে রয়েছে। জমিটির মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি আদালতেই বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর জনাব কাফি একটি জমি ক্রয় করেছেন। সেখানে স্কুলের দাবি করা জায়গায় রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। একই জমির মালিকানা স্কুল এবং স্থানীয় একটি পরিবার উভয়েই দাবি করছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জমি দখলের বিষয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কলাপাড়া পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিক্স লেন সড়কের সংলগ্ন নিজের মালিকানাধীন জমির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন নুরুজ্জামান কাফি।

সংবাদ সম্মেলনে কাফি জানান, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদে তাকে এবং তার রাজনৈতিক দল এনসিপিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেছেন, প্রচারিত সংবাদে বলা হয়েছে আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার জীবনে সম্ভবত দুই থেকে তিনবারের বেশি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়নি। আমি সবসময় অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। একজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই আসে না।

কাফির দাবি, প্রায় এক বছর আগে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে নিজের ছয় শতাংশ জমিতে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তখন প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

তিনি আরও জানান, আমি যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছি, তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের ৩০ থেকে ৪০ বছরের একটি মামলা চলমান ছিল। প্রায় এক বছর আগে তারা মামলায় রায় পান। সেই রায়ের ভিত্তিতেই তারা আমাকে চলাচলের জন্য রাস্তার জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া জায়গাতেই রাস্তা নির্মাণ করেছি, বিদ্যালয়ের কোনো জমিতে নয়।

জমির মালিক মো. সালাউদ্দিন নয়নও কাফির বক্তব্যের সমর্থন করে বলেছেন, আমরা কাফিকে ছয় শতাংশ জমি রাস্তা নির্মাণের জন্য দিয়েছি। বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন মামলা চলেছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমরা আমাদের পক্ষে রায় পেয়েছি। এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আগে বিদ্যালয় জমিটি ভোগদখলে রাখলেও মামলার রায়ের পর বর্তমানে আমরা দখলে আছি এবং সেখানে চাষাবাদ করছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নং-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত সপ্তাহে তাদের রেকর্ডভুক্ত জমির সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ছয় শতাংশ জমি দখল করে নুরুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। যদিও ওই জমির পাশেই কাফির রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তিগত জমি রয়েছে।

খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন , বিতর্কিত জমিটি বিদ্যালয়ের ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে রয়েছে। জমিটির মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি আদালতেই বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর জনাব কাফি একটি জমি ক্রয় করেছেন। সেখানে স্কুলের দাবি করা জায়গায় রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। একই জমির মালিকানা স্কুল এবং স্থানীয় একটি পরিবার উভয়েই দাবি করছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে।