ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্যোতিষি ছালামের ভবিষ্যত বানী: ফুটবল বিশ্ব কাপে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে ফ্রান্স প্রাথমিক শিক্ষার বাতিঘর কলাপাড়া মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কলাপাড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক  

কলাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষ দখল করে শিক্ষক-শিক্ষিকার বসবাস, ব্যহত হচ্ছে পাঠদান

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাঠদানের বেঞ্চ জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে খাট। কক্ষজুড়ে টানানো দড়িতে ঝুলছে জামা কাপড়। এক পাশে রয়েছে গ্যাস থেকে শুরু করে রান্না করার সকল সরঞ্জাম, চলছে রান্নাবান্নাও। পুরোপুরি বসতঘরে রুপ দেওয়া এ কক্ষটি দেখে বোঝায় উপায় নেই যে এটি একটি পাঠদানের কক্ষ ছিলো৷ পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ঠিক এভাবে ১৩৯ নং ফাসিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেনিকক্ষ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলিকা পারভিন ও তার স্বামী ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব সিদ্দিকী। পাঠদান চলাকালীন সময় ওই কক্ষে করা হয় রান্নাবান্না। এতে খাবারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে শ্রেণীকক্ষে। ফলে ব্যহত হচ্ছে পুরো বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের  পাঠদান কার্যক্রম। সাবেক ওই প্রধান শিক্ষকের ভয়ে কোন অভিভাবক বা শিক্ষক ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও তারা ওই কক্ষটিতে পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া সচেতন মহল শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

স্থানীয় একাধিক অভিভাবকরা নাম না বলার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছেলেমেয়েরা অভিযোগ করে আসছে। যখন ক্লাস শুরু হয় তখন রান্নাবান্নার কাজ চলতে থাকে। এর গন্ধে ক্লাসে থাকতে পারেনা। গ্যাসের  সিলিন্ডার থাকায় সব সময় আতঙ্কে থাকে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই বিদ্যালয়ের এই সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করে। এবং ছেলে মেয়েদের পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। 

ফাসিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলিকা পারভিন বলেন, আমাদের থাকার বাসা বাড়ি নেই এবং বিদ্যালয়ের পাঠদানে ওই কক্ষটি কাজে না আসায় এখানে  বসবাস করছি। এছাড়া এই স্কুল থেকে অন্য স্থানান্তর হওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলেই অন্য স্কুলে চলে যাবো।

মঙ্গলসুখ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম আবুল হোসেন, আমাদের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী বিদ্যালয়ের কোন কক্ষ বরাদ্দ অথবা আবাসিক ব্যবস্থাপনা নেই। যারা ওখানে থাকেন 

শিশুদের শিক্ষা স্বাস্থ্যের  স্বার্থে বিদ্যালয় থেকে অতি দ্রুত চলে যাওয়া উচিত।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  শাহিদা পারভীন বলেন, সরকারি কোন বিদ্যালয় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার নিয়ম নেই।  আমি ওই স্কুলে দেখতে যাবো। ঘটনা সত্যতা পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন 

বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষ দখল করে শিক্ষক-শিক্ষিকার বসবাস, ব্যহত হচ্ছে পাঠদান

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পাঠদানের বেঞ্চ জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে খাট। কক্ষজুড়ে টানানো দড়িতে ঝুলছে জামা কাপড়। এক পাশে রয়েছে গ্যাস থেকে শুরু করে রান্না করার সকল সরঞ্জাম, চলছে রান্নাবান্নাও। পুরোপুরি বসতঘরে রুপ দেওয়া এ কক্ষটি দেখে বোঝায় উপায় নেই যে এটি একটি পাঠদানের কক্ষ ছিলো৷ পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ঠিক এভাবে ১৩৯ নং ফাসিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেনিকক্ষ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলিকা পারভিন ও তার স্বামী ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব সিদ্দিকী। পাঠদান চলাকালীন সময় ওই কক্ষে করা হয় রান্নাবান্না। এতে খাবারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে শ্রেণীকক্ষে। ফলে ব্যহত হচ্ছে পুরো বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের  পাঠদান কার্যক্রম। সাবেক ওই প্রধান শিক্ষকের ভয়ে কোন অভিভাবক বা শিক্ষক ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও তারা ওই কক্ষটিতে পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া সচেতন মহল শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

স্থানীয় একাধিক অভিভাবকরা নাম না বলার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছেলেমেয়েরা অভিযোগ করে আসছে। যখন ক্লাস শুরু হয় তখন রান্নাবান্নার কাজ চলতে থাকে। এর গন্ধে ক্লাসে থাকতে পারেনা। গ্যাসের  সিলিন্ডার থাকায় সব সময় আতঙ্কে থাকে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই বিদ্যালয়ের এই সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করে। এবং ছেলে মেয়েদের পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। 

ফাসিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলিকা পারভিন বলেন, আমাদের থাকার বাসা বাড়ি নেই এবং বিদ্যালয়ের পাঠদানে ওই কক্ষটি কাজে না আসায় এখানে  বসবাস করছি। এছাড়া এই স্কুল থেকে অন্য স্থানান্তর হওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলেই অন্য স্কুলে চলে যাবো।

মঙ্গলসুখ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম আবুল হোসেন, আমাদের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী বিদ্যালয়ের কোন কক্ষ বরাদ্দ অথবা আবাসিক ব্যবস্থাপনা নেই। যারা ওখানে থাকেন 

শিশুদের শিক্ষা স্বাস্থ্যের  স্বার্থে বিদ্যালয় থেকে অতি দ্রুত চলে যাওয়া উচিত।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  শাহিদা পারভীন বলেন, সরকারি কোন বিদ্যালয় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার নিয়ম নেই।  আমি ওই স্কুলে দেখতে যাবো। ঘটনা সত্যতা পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন 

বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।