ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্যোতিষি ছালামের ভবিষ্যত বানী: ফুটবল বিশ্ব কাপে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে ফ্রান্স প্রাথমিক শিক্ষার বাতিঘর কলাপাড়া মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কলাপাড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক  

কলাপাড়ায় ট্যাক্সের নামে জেলেদের কাছ থেকে ৩শ’ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাকামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের নামে সামুদ্রিক মাছ শিকারী জেলেদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান মজিবর ফকিরের নির্দেশে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা এ চাঁদার টাকা আদায় করছেন। তবে এঘটনায় চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি না হলেও একাধিক জেলের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের নামে ৭৭.৩ কেজি করে চাল বরাদ্ধ করে মৎস্য বিভাগ। ইতিমধ্যে কলাপাড়ার বেশি কিছু ইউনিয়নের চাল বিতরন করা হয়েছে। তবে চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৮০৬ জন জেলে এখনও চাল পায়নি। চাল পাওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলের কাছে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশি কিছু জেলে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা করে প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় এসব চাঁদা তুলছেন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা প্রদান করার পর রশিদ দিলেও তা ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনা। 

চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমার যদি বেশি সম্পদ থাকতো বা বড় ঘর থাকতো তাহলে তো আমি দিলে পেশায় থাকতাম না। আমার ছোট্ট একটি ঘর রয়েছে এবং অল্প কিছু জমি রয়েছে। এর এর ট্যাক্স সর্বোচ্চ ১০০ বার ১২০ টাকা হতে পারে। সেখানে আমার কাছ থেকে রশিদ দিয়ে ৩০০ টাকা নিয়েছে আমাদের চৌকিদার। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অপর এক জেলে বলেন, আমাদের এলাকার চৌকিদার বলেছে চাল পেতে হলে আমাদের প্রত্যেক জেলেদের ৫০০ করে ট্যাক্সের টাকা দিতে হবে। আর যদি টাকা না দেই তাহলে আমাদের চাল দিবেনা। তবে আমরা ট্যাক্সের সরকারী টাকা দিতে রাজি। ট্যাক্স তো আসলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড়শ টাকা হতে পারে।

চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুবক্কর বলেন, আমরা এখন এই ইউনিয়ন পরিষদে শুধু নামের মেম্বারি করি। সকল কাজ চেয়ারম্যান একা করে। অনেক জেলেদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্টারে উঠানো হয়নি। 

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলেদের চালের বিনিময়ে ট্যাক্সে রশিদের মাধ্যমে  কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয় না। যাদের ট্যাক্স টাকা দিতে বাকি থাকে তাদের কাছ থেকে রশিদ মাধ্যমে রেজিস্টার মেন্টেন করা হয় ট্যাক্সের টাকা উত্তোলন করা হয়। জেলেদের চাল দিতে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করা এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন জেলে চাল পেতে হলে কোন ট্যাক্স দেয়া লাগে না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো। তবে নাগরিক হিসাবে সঠিক সময়ে ট্যাক্স পরিষদ করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়ায় ট্যাক্সের নামে জেলেদের কাছ থেকে ৩শ’ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাকামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের নামে সামুদ্রিক মাছ শিকারী জেলেদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান মজিবর ফকিরের নির্দেশে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা এ চাঁদার টাকা আদায় করছেন। তবে এঘটনায় চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি না হলেও একাধিক জেলের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের নামে ৭৭.৩ কেজি করে চাল বরাদ্ধ করে মৎস্য বিভাগ। ইতিমধ্যে কলাপাড়ার বেশি কিছু ইউনিয়নের চাল বিতরন করা হয়েছে। তবে চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৮০৬ জন জেলে এখনও চাল পায়নি। চাল পাওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলের কাছে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশি কিছু জেলে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা করে প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় এসব চাঁদা তুলছেন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা প্রদান করার পর রশিদ দিলেও তা ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনা। 

চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমার যদি বেশি সম্পদ থাকতো বা বড় ঘর থাকতো তাহলে তো আমি দিলে পেশায় থাকতাম না। আমার ছোট্ট একটি ঘর রয়েছে এবং অল্প কিছু জমি রয়েছে। এর এর ট্যাক্স সর্বোচ্চ ১০০ বার ১২০ টাকা হতে পারে। সেখানে আমার কাছ থেকে রশিদ দিয়ে ৩০০ টাকা নিয়েছে আমাদের চৌকিদার। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অপর এক জেলে বলেন, আমাদের এলাকার চৌকিদার বলেছে চাল পেতে হলে আমাদের প্রত্যেক জেলেদের ৫০০ করে ট্যাক্সের টাকা দিতে হবে। আর যদি টাকা না দেই তাহলে আমাদের চাল দিবেনা। তবে আমরা ট্যাক্সের সরকারী টাকা দিতে রাজি। ট্যাক্স তো আসলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড়শ টাকা হতে পারে।

চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুবক্কর বলেন, আমরা এখন এই ইউনিয়ন পরিষদে শুধু নামের মেম্বারি করি। সকল কাজ চেয়ারম্যান একা করে। অনেক জেলেদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্টারে উঠানো হয়নি। 

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলেদের চালের বিনিময়ে ট্যাক্সে রশিদের মাধ্যমে  কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয় না। যাদের ট্যাক্স টাকা দিতে বাকি থাকে তাদের কাছ থেকে রশিদ মাধ্যমে রেজিস্টার মেন্টেন করা হয় ট্যাক্সের টাকা উত্তোলন করা হয়। জেলেদের চাল দিতে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করা এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন জেলে চাল পেতে হলে কোন ট্যাক্স দেয়া লাগে না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো। তবে নাগরিক হিসাবে সঠিক সময়ে ট্যাক্স পরিষদ করা উচিত।