ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

মানবপাচার প্রতিরোধে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ১১২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাটে মানব পাচার প্রতিরোধে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) বিকালে লালমনিরহাট জেলা জজ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাড. নজরুল ইসলাম সরকার-এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আশরাফুল আলম। বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি লুৎফর রহমান, শিশু আদালতের এপিপি হুমায়ন কবির মিঠুল, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি আঞ্জুমান আরা শাপলা, ময়েজ উদ্দিন সরকার, আমিনুর ইসলাম, শামসুল হক প্রমুখ। এ সময় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানব পাচার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জটিল ও নৃশংস অপরাধগুলোর একটি। এটি আধুনিক দাসত্বের একটি ভয়াবহ রূপ, যেখানে মানুষকে জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এই অপরাধের শিকার ব্যক্তিগণ প্রায়শই নারী, শিশু, দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণীর হয়ে থাকে। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন আইনি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এই ব্যক্তিগণ প্রায়শই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার মানবপাচার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মানবপাচার বিষয়ক প্রতিবেদন ২০২৪-এ বলা হয়েছে। কিন্তু, সর্বনিম্ন মান পুরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কিছু কিছু জায়গায় উন্নতি হয়েছে বলে এই শীর্ষক কর্মশালায় উঠে আসে।

বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধ করার জন্য বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ (সংশোধনী) ২০০৩, এই আইনের ৫ ও ৬ ধারায় নারী ও শিশু পাচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বাইরেও পাচার প্রতিরোধে অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ অ্যাক্ট, ১৯৩৩ নামে একটি আইনও পাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তিতে দেখা যায় এ সকল আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনটি পাস করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন, ২০০০ এবং সার্ক কনভেনশন অনুসরণ করে সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত আন্তঃদেশীয় অপরাধগুলো প্রতিরোধ ও দমনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সাথে এই আইনকে সঙ্গতিপূর্ণ করা হয়।

এই আইনের ফলে ২০০০ সালে পাশকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৫ ও ৬ ধারা এবং একই সাথে অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ অ্যাক্ট, ১৯৩৩ নামে আইনটি অকার্যকর করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ২১ (১) ধারা অনুযায়ী, অপরাধসমূহ বিচারের জন্য দায়রা জজ কিংবা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সব জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। ফলে এখনো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাগুলোর বিচার চলছে। এ ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা, ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনটির পরিপূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও সমমনা সংস্থার অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ৭টি বিভাগীয় জেলায় ৭টি মানবপাচার প্রতিরোধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধে ৮টি টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে। উক্ত টাস্ক ফোর্স সদস্যগণ মানব পাচার প্রতিরোধ ও ট্রাইবুনালে মামলা পরিচালনায় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। টাস্ক ফোর্স সদস্যগণ বাদী, ভিকটিম, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করা ও মামলার তদন্তকারী অফিসারসহ প্রসিকিউটরদের সাথে আলোচনা করে থাকে। যা ইতিমধ্যে ট্রাইবুনাল কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। ট্রাইবুনালে মামলার সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে।

লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল থেকে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলায় ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ৬৩টি। মামলাগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ৫৬টি মামলা। তার মধ্যে নিষ্পত্তি/খালাস হয়েছে ৬টি এবং রায় (সাজা) হয়েছে ০০টি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মানবপাচার প্রতিরোধে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

লালমনিরহাটে মানব পাচার প্রতিরোধে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) বিকালে লালমনিরহাট জেলা জজ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাড. নজরুল ইসলাম সরকার-এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আশরাফুল আলম। বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি লুৎফর রহমান, শিশু আদালতের এপিপি হুমায়ন কবির মিঠুল, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি আঞ্জুমান আরা শাপলা, ময়েজ উদ্দিন সরকার, আমিনুর ইসলাম, শামসুল হক প্রমুখ। এ সময় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানব পাচার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জটিল ও নৃশংস অপরাধগুলোর একটি। এটি আধুনিক দাসত্বের একটি ভয়াবহ রূপ, যেখানে মানুষকে জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এই অপরাধের শিকার ব্যক্তিগণ প্রায়শই নারী, শিশু, দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণীর হয়ে থাকে। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন আইনি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এই ব্যক্তিগণ প্রায়শই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার মানবপাচার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মানবপাচার বিষয়ক প্রতিবেদন ২০২৪-এ বলা হয়েছে। কিন্তু, সর্বনিম্ন মান পুরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কিছু কিছু জায়গায় উন্নতি হয়েছে বলে এই শীর্ষক কর্মশালায় উঠে আসে।

বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধ করার জন্য বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ (সংশোধনী) ২০০৩, এই আইনের ৫ ও ৬ ধারায় নারী ও শিশু পাচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বাইরেও পাচার প্রতিরোধে অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ অ্যাক্ট, ১৯৩৩ নামে একটি আইনও পাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তিতে দেখা যায় এ সকল আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনটি পাস করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন, ২০০০ এবং সার্ক কনভেনশন অনুসরণ করে সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত আন্তঃদেশীয় অপরাধগুলো প্রতিরোধ ও দমনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সাথে এই আইনকে সঙ্গতিপূর্ণ করা হয়।

এই আইনের ফলে ২০০০ সালে পাশকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৫ ও ৬ ধারা এবং একই সাথে অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ অ্যাক্ট, ১৯৩৩ নামে আইনটি অকার্যকর করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ২১ (১) ধারা অনুযায়ী, অপরাধসমূহ বিচারের জন্য দায়রা জজ কিংবা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সব জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। ফলে এখনো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাগুলোর বিচার চলছে। এ ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা, ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনটির পরিপূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও সমমনা সংস্থার অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ৭টি বিভাগীয় জেলায় ৭টি মানবপাচার প্রতিরোধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধে ৮টি টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে। উক্ত টাস্ক ফোর্স সদস্যগণ মানব পাচার প্রতিরোধ ও ট্রাইবুনালে মামলা পরিচালনায় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। টাস্ক ফোর্স সদস্যগণ বাদী, ভিকটিম, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করা ও মামলার তদন্তকারী অফিসারসহ প্রসিকিউটরদের সাথে আলোচনা করে থাকে। যা ইতিমধ্যে ট্রাইবুনাল কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। ট্রাইবুনালে মামলার সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে।

লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল থেকে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলায় ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ৬৩টি। মামলাগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ৫৬টি মামলা। তার মধ্যে নিষ্পত্তি/খালাস হয়েছে ৬টি এবং রায় (সাজা) হয়েছে ০০টি।