ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

লালমনিরহাটে হাত বদলে বাড়েছে সবজির দাম; বঞ্চিত চাষিরা

মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাট সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। ইতিমধ্যে হাট-বাজারে সবজি আসতে শুরু করেছে এবং নতুন করে সবজি চাষে পুরোদমে ব্যস্ত রয়েছেন কৃষক-কৃষানীরা। তবে এ জেলার কৃষকেরা প্রতিনিয়ত পাইকারি বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি। ফলে হাত বদলে বাড়ে সবজির দাম। কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি যায় পাইকারি বাজার, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে সবজির দামের ব্যবধান হয় আকাশ-পাতাল। চাষী পর্যায় থেকে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ আর খুচরা বাজারে থেকে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে তা তিনগুণ দামে।

মাঠের চাষীদের অভিযোগ, ন্যায্য মূল্যে শাক-সবজি বিক্রি করতে না পারায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতি মৌসুমেই। লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন, ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভার সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়। বেগুন করলা, শসা, বরবটি চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, ডাটাশাক, কচু, আলু, ঢেঁড়স, পেঁপে, মূলা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ হয়।

উৎপাদিত সবজি লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী, লালমনিরহাট পৌরসভার গোশালা বাজার, আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কুমড়িরহাট পাইকারি বাজারে বিক্রি করে থাকেন কৃষকেরা। ভরা মৌসুমে পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় বিভিন্ন বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০টি ট্রাক শাক-সবজি কিনে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেনী, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর জেলায় পাঠাচ্ছেন।

লালমনিরহাট জেলার শাক-সবজি এসব জেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করে। বড়বাড়ী, কুমড়িরহাট, গোশালা বাজার পাইকারি সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকালে প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে সবজি চাষিরা সাইকেল, ঠেলাগাড়ি, ভ্যান, রিকশা, অটোরিক্সায় বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে।

নাম প্রকাশে অনেক সবজি চাষিরা বলেন, পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় দালাদের সঙ্গে বাজার বসার আগেই আলোচনা করে একটা দাম ঠিক করে নেন। সেই নামেই পাইকাররা বাজার থেকে সবজি কেনেন। সিন্ডিকেটের কারণে শেষ পর্যন্ত লোকসান দিয়েই সবজি বিক্রি করতে হয়।

আরও বলেন, মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে সবজি উৎপাদন করি ঠিকই, কিন্তু বাজারে সঠিক দাম পাই না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লালমনিরহাটে হাত বদলে বাড়েছে সবজির দাম; বঞ্চিত চাষিরা

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

লালমনিরহাট সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। ইতিমধ্যে হাট-বাজারে সবজি আসতে শুরু করেছে এবং নতুন করে সবজি চাষে পুরোদমে ব্যস্ত রয়েছেন কৃষক-কৃষানীরা। তবে এ জেলার কৃষকেরা প্রতিনিয়ত পাইকারি বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি। ফলে হাত বদলে বাড়ে সবজির দাম। কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি যায় পাইকারি বাজার, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে সবজির দামের ব্যবধান হয় আকাশ-পাতাল। চাষী পর্যায় থেকে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ আর খুচরা বাজারে থেকে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে তা তিনগুণ দামে।

মাঠের চাষীদের অভিযোগ, ন্যায্য মূল্যে শাক-সবজি বিক্রি করতে না পারায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতি মৌসুমেই। লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন, ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভার সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়। বেগুন করলা, শসা, বরবটি চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, ডাটাশাক, কচু, আলু, ঢেঁড়স, পেঁপে, মূলা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ হয়।

উৎপাদিত সবজি লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী, লালমনিরহাট পৌরসভার গোশালা বাজার, আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কুমড়িরহাট পাইকারি বাজারে বিক্রি করে থাকেন কৃষকেরা। ভরা মৌসুমে পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় বিভিন্ন বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০টি ট্রাক শাক-সবজি কিনে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেনী, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর জেলায় পাঠাচ্ছেন।

লালমনিরহাট জেলার শাক-সবজি এসব জেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করে। বড়বাড়ী, কুমড়িরহাট, গোশালা বাজার পাইকারি সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকালে প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে সবজি চাষিরা সাইকেল, ঠেলাগাড়ি, ভ্যান, রিকশা, অটোরিক্সায় বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে।

নাম প্রকাশে অনেক সবজি চাষিরা বলেন, পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় দালাদের সঙ্গে বাজার বসার আগেই আলোচনা করে একটা দাম ঠিক করে নেন। সেই নামেই পাইকাররা বাজার থেকে সবজি কেনেন। সিন্ডিকেটের কারণে শেষ পর্যন্ত লোকসান দিয়েই সবজি বিক্রি করতে হয়।

আরও বলেন, মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে সবজি উৎপাদন করি ঠিকই, কিন্তু বাজারে সঠিক দাম পাই না।