ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক   ৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষির স্বর্গরাজ্য পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬  ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ পুরস্কার পেলেন কলাপাড়া থানার এএসআই জসিম আকন।

কলাগাছের ভেলায় ভেসে বানভাসী মানুষের সংবাদ সম্মেলন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবিতে কলাগাছের ভেলায় ভেসে সংবাদ সম্মেলন করেছে বানভাসী মানুষরা। সোমবার বেলা এগারোটায় উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদী তীর এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ওই গ্রামের শতাধিক ভূক্তভোগী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বানভাসী মানুষের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা হালিমা আয়শা।তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদী তীর সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছে ২৫০টি পরিবার। এ নদীর তীরে বেড়িবাঁধ না থাকায় বহু বছর ধরে প্রতিনিয়ত দু’দফা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ওই এলাকায়। তলিয়ে যায় ২০০ একর কৃষি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসত ভিটা। বর্ষাকালীন সময়ে অনেকের চুলোয় জলেনা উনুন। নষ্ট হয়ে যায় জমির ফসল। তখন চলাচলের একমাত্র বাহন হয় ভেলা কিংবা নৌকা। ওই গ্রামের ৩ কিলোমিটার এলাকায় টেকসই রিং বেড়িবাঁধ নির্মান করলে এ অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে বানভাসী মানুষ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবি জানান তিনি। 

কৃষক বেল্লাল হোসেন বলেন, দফায় দফায় জোয়ারের কারণে আমাদের জমি পানিতে তলিয়ে যায়, আমরা চাষাবাদ করতে পারিনা। সময় মত বয়স্ক লোকদের ডাক্তার দেখাতে যেতে পারিনা।  আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। 

গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারে ঘরের ভিতর পানি ঢুকে সবকিছু তলিয়ে যায়। চুলায় পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে আমরা রান্না করতে পারি না। অনেক সময় পানিতে সবকিছু ডুবে যাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম অন্তর বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দেয়া সত্যেও আমাদের এই বেরিবাধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়নি। এজন্য আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুতই সময়ের মধ্যে টেকসই বেরিবাধ নির্মাণ করা হয়।

শিক্ষার্থীর তৃতীয় শ্রেণীর নাঈম ইসলাম বলেন, প্রতিদিন জোয়ার পানিতে আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বাড়িতে আসতেও পানিতে তলিয়ে থাকে রাস্তাঘাট।  স্কুলে যেতে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। আমাদের দাবি সরকারের কাছে টেকসই বেরিবাধ নির্মাণ করে দেয়া হয়।

এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান সাদিক বলেন, ভূক্তভোগীরা আবেদন করলে বাঁধ নির্মানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য গত বছর অক্টোবর মাস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবন্ধন, জোয়ারের পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন সহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাগাছের ভেলায় ভেসে বানভাসী মানুষের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবিতে কলাগাছের ভেলায় ভেসে সংবাদ সম্মেলন করেছে বানভাসী মানুষরা। সোমবার বেলা এগারোটায় উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদী তীর এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ওই গ্রামের শতাধিক ভূক্তভোগী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বানভাসী মানুষের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা হালিমা আয়শা।তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদী তীর সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছে ২৫০টি পরিবার। এ নদীর তীরে বেড়িবাঁধ না থাকায় বহু বছর ধরে প্রতিনিয়ত দু’দফা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ওই এলাকায়। তলিয়ে যায় ২০০ একর কৃষি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসত ভিটা। বর্ষাকালীন সময়ে অনেকের চুলোয় জলেনা উনুন। নষ্ট হয়ে যায় জমির ফসল। তখন চলাচলের একমাত্র বাহন হয় ভেলা কিংবা নৌকা। ওই গ্রামের ৩ কিলোমিটার এলাকায় টেকসই রিং বেড়িবাঁধ নির্মান করলে এ অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে বানভাসী মানুষ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবি জানান তিনি। 

কৃষক বেল্লাল হোসেন বলেন, দফায় দফায় জোয়ারের কারণে আমাদের জমি পানিতে তলিয়ে যায়, আমরা চাষাবাদ করতে পারিনা। সময় মত বয়স্ক লোকদের ডাক্তার দেখাতে যেতে পারিনা।  আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। 

গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারে ঘরের ভিতর পানি ঢুকে সবকিছু তলিয়ে যায়। চুলায় পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে আমরা রান্না করতে পারি না। অনেক সময় পানিতে সবকিছু ডুবে যাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম অন্তর বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দেয়া সত্যেও আমাদের এই বেরিবাধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়নি। এজন্য আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুতই সময়ের মধ্যে টেকসই বেরিবাধ নির্মাণ করা হয়।

শিক্ষার্থীর তৃতীয় শ্রেণীর নাঈম ইসলাম বলেন, প্রতিদিন জোয়ার পানিতে আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বাড়িতে আসতেও পানিতে তলিয়ে থাকে রাস্তাঘাট।  স্কুলে যেতে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। আমাদের দাবি সরকারের কাছে টেকসই বেরিবাধ নির্মাণ করে দেয়া হয়।

এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান সাদিক বলেন, ভূক্তভোগীরা আবেদন করলে বাঁধ নির্মানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য গত বছর অক্টোবর মাস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবন্ধন, জোয়ারের পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন সহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছে।