ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জমি দখলের বিষয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি কলাপাড়ায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার-১ ঠিকাদারির নামে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রণব শাখারি গোপাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কলাপাড়ায় “প্রাণ সংহতি” সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পায়রা বন্দরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল, রাসেল সম্পাদক নির্বাচিত হায়াতো ও মোকো এডিশন স্মার্টওয়াচ এবং হেডফোন আনল ওরাইমো বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৬ জেলেকে খুঁজতে নৌবাহিনীর ‘বানৌজা গোমতি’র উদ্ধার অভিযান মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষনার প্রস্তুতির খবরে উপকূলে উৎসবের আমেজ

তজুমদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক কবির হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক মো. কবির রাড়ী (৩৫) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় জনতা। শুক্রবার সকালে বাংলাবাজার ও দক্ষিণ খাসেরহাট এলাকায় হাজারো মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

নিহত কবিরের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, গত ২৮ জুলাই জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কবিরের চাচাতো ভাই এবং তাদের সহযোগীরা কবিরকে বাড়ির পাশের বাগানে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখায়। ভীত-সন্ত্রস্ত কবির দৌড়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে কাঁপতে কাঁপতে পরিবারের সদস্যদের ঘটনার কথা জানান।

এর পরদিন ২৯ জুলাই সন্ধ্যা থেকে কবির নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের তৃতীয় দিন কবিরের ঘরের সামনে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল—“কবিরকে মেরে ফেলা হয়েছে, পরবর্তী টার্গেট তার ছোট ভাই কামরুল।”

অবশেষে ১ আগস্ট সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় কবিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মরদেহের হাতে-পায়ে, বুকে ও চোখে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, সুস্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে “অপমৃত্যু” মামলা রুজু করে এবং আটককৃতদের অল্প সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেয়। পরে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বোন সুরমা বেগম বলেন, “আমার ভাই বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, মামলার তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়েও তারা সন্দিহান। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে তজুমদ্দিন থানা ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাব্বত খান বলেন, আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তজুমদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক কবির হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫


ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক মো. কবির রাড়ী (৩৫) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় জনতা। শুক্রবার সকালে বাংলাবাজার ও দক্ষিণ খাসেরহাট এলাকায় হাজারো মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

নিহত কবিরের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, গত ২৮ জুলাই জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কবিরের চাচাতো ভাই এবং তাদের সহযোগীরা কবিরকে বাড়ির পাশের বাগানে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখায়। ভীত-সন্ত্রস্ত কবির দৌড়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে কাঁপতে কাঁপতে পরিবারের সদস্যদের ঘটনার কথা জানান।

এর পরদিন ২৯ জুলাই সন্ধ্যা থেকে কবির নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের তৃতীয় দিন কবিরের ঘরের সামনে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল—“কবিরকে মেরে ফেলা হয়েছে, পরবর্তী টার্গেট তার ছোট ভাই কামরুল।”

অবশেষে ১ আগস্ট সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় কবিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মরদেহের হাতে-পায়ে, বুকে ও চোখে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, সুস্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে “অপমৃত্যু” মামলা রুজু করে এবং আটককৃতদের অল্প সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেয়। পরে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বোন সুরমা বেগম বলেন, “আমার ভাই বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, মামলার তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়েও তারা সন্দিহান। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে তজুমদ্দিন থানা ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাব্বত খান বলেন, আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”