১৫ জেলেসহ বঙ্গোপসাগরে মাছধরা ট্রলার ডুবি, ৫ জেলে নিখোজ, উদ্ধার-১০
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ৬১ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় সমুদ্রে ৪ দিন ভেসে থাকার পর ১০ জেলেকে উদ্ধার করেছে অপর দুটি মাছধরা ট্রলার। এখনো নিখোজ রয়েছে আবদুর রশিদ, নজরুল ইসলাম, রফিক, ইদ্রিস, সাগর ও কালাম নামের ৬ জেলে। মঙ্গলবার ভোররাতে আহত জেলেদের কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার সকাল দশটায় দিকে বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়ার ৭৫ কিলোমিটার গভীরে এ ঘটনা ঘটে। নিখোজ জেলেদের বাড়ি মহিপুর ও লক্ষীপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে।
উদ্ধারকৃত জেলেরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহিপুর থেকে আবদুর রশিদ মাঝি ১৫ জেলে সহ ওই ট্রলারটি নিয়ে গভীর সাগরে যায়। শুক্রবার সকালে শেষ বয়ার ৭৫ কিলোমিটার গভীর গিয়ে জাল ফেলার পর হঠাৎ ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডবে তাদের ট্রলারটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ডুবে যায়। এসময় তাদের কাছ থেকে ইদ্রিস ও কালাম নামের দুই জেলে হারিয়ে যায়। বাকি ১৩ জন বাঁশ ও ফ্লুটের সাহায্যে ভাসতে শুরু করলে দু,দুফায় মাঝি আবদুর রশিদ, সাগর, নজরুল ও রফিক নামের আরও ৪ জেলে হারিয়ে যায়। পরে তারা গতকাল রাতে ভাসতে ভাসতে শেষ বয়া এলাকায় পৌছলে দুটি ট্রলার পৃথক স্থান থেকে তাদের ১০ জনকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ভোররাতে আহত ১০ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করলে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলে হাসান বলেন, আমরা যখন জাল ফেলেছি তখন সাগর একেবারে ঠান্ডা ছিলো। পরে যখন জাল টেনে ট্রলারে তুলতে ছিলাম হঠাৎ একটি ঝড় এবং উত্তাল ঢেউ এসে আমাদের ট্রলারটি ৩ খন্ড করে ফেলে। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দুজনকে হারিয়ে ফেলি। পরে ভাসতে ভাসতে আরও ৪ জন কোথায় গিয়ে পৌছায় সেটি বলতে পারিনা। আমাদের সঙ্গে যে ১০ জন ছিলো এরমধ্যে অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। গতকাল রাতে একটি আলো দেখে ভাসতে ভাসতে শেষ বয়া এলাকার কাছে পৌছালে একটি ট্রলার আমাদের উদ্ধার করে।
অপর জেলে হারুন বলেন, সাগরে দুইদিন ভাসার পর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে কিভাবে বেচেছি তা জানিনা। তবে আল্লাহ বাচিয়েছে। হাসপাতালে এসে আমি জ্ঞান ফিরে পাই।
উদ্ধার হওয়া জেলে ইব্রাহিমের শাশুড়ি বলেন, কোরবানির পর আমার মেয়ের সাথে ইব্রাহিমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতই এই এই দুর্ঘটনা। আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছি, আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করেছে আমাদের জামাই আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিয়েছে।
মহিপুর থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, এঘটনায় গত ২৬ জুলাই ট্রলার মালিক কিশোর হাওলাদার জেলে নিখোজ উল্লেখ করে একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন। আমরা নিখোজ ৫ জন জেলের সন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।














