ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক   ৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষির স্বর্গরাজ্য পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬  ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ পুরস্কার পেলেন কলাপাড়া থানার এএসআই জসিম আকন।

মৎস্য প্রজননে বাধা অবৈধ ট্রলিং ও জাল বন্ধের দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫ ৭০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৎস্য প্রজননে বাধা সৃষ্টি করছে গভীর সমুদ্রে চলমান অবৈধ ট্রলিং ফিশিং। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার সাধারণ জেলেরা। 

রোববার সকাল ১১টায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা চৌরাস্তায়  ট্রলিং ফিশিং বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকরা  ।

এসময় বক্তারা জানান, মৎস্য প্রজননের মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গভীর সমুদ্রে রাতদিন চলছে ট্রলার দিয়ে মাছ শিকার। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলের হাজার হাজার ক্ষুদ্র জেলে পরিবার। তারা জানান, বড় বড় ট্রলারগুলো আইন না মেনে গভীর সাগরে মাছ ধরছে, যা ছোট জেলেদের জীবন জীবিকার জন্য হুমকি। জরুরি ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি দাবি করেছেন জেলেরা।

জেলে আব্বাস উদ্দিন বলেন, অবৈধ ট্রলিং বোর্ডের  জাল দেড় ‘শত ফুট  গভীরে গিয়ে মাছ ধরে আনতে সক্ষম হয়। এজন্য তাদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠে আসে। তারা বড় সাইজের মাছগুলো রেখে সব ছোট রেনু পোনাগুলি মেরে সাগরে ফেলে দেয়। এইজন্য মাছের প্রজনন  বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। এর কারণে আমাদের জালে কোন মাছ ধরা পড়তেছে না। মাহজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছি। এখন দেশ ছেড়ে পালানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। 

জেলে ফারুক বলেন, অবৈধ টংলিং বোর্ডগুলোর সাগরে জাল ফেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে ফেলে । আমরা যারা সাধারণ জেলে আছি আমাদের জালে একটা মাছ ধরা পড়ে না।  এজন্য 

পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন কিস্তি দিতে পারছি না। ভাবছি পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরি কাজ শুরু করবো।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ট্রলিংয়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় বোট মালিকদের নোটিশ দিয়েছি। ইতোমধ্যেই তিনটি বোট জব্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাহারা সমুদ্রে মাছ শিকার করার আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছেন। আশাকরছি খুব শীঘ্রই রিট আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তারপর আমরা পুরোদমে ট্রলিং বন্ধের জন্য অভিযান শুরু করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মৎস্য প্রজননে বাধা অবৈধ ট্রলিং ও জাল বন্ধের দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৯:২০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

মৎস্য প্রজননে বাধা সৃষ্টি করছে গভীর সমুদ্রে চলমান অবৈধ ট্রলিং ফিশিং। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার সাধারণ জেলেরা। 

রোববার সকাল ১১টায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা চৌরাস্তায়  ট্রলিং ফিশিং বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকরা  ।

এসময় বক্তারা জানান, মৎস্য প্রজননের মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গভীর সমুদ্রে রাতদিন চলছে ট্রলার দিয়ে মাছ শিকার। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলের হাজার হাজার ক্ষুদ্র জেলে পরিবার। তারা জানান, বড় বড় ট্রলারগুলো আইন না মেনে গভীর সাগরে মাছ ধরছে, যা ছোট জেলেদের জীবন জীবিকার জন্য হুমকি। জরুরি ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি দাবি করেছেন জেলেরা।

জেলে আব্বাস উদ্দিন বলেন, অবৈধ ট্রলিং বোর্ডের  জাল দেড় ‘শত ফুট  গভীরে গিয়ে মাছ ধরে আনতে সক্ষম হয়। এজন্য তাদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠে আসে। তারা বড় সাইজের মাছগুলো রেখে সব ছোট রেনু পোনাগুলি মেরে সাগরে ফেলে দেয়। এইজন্য মাছের প্রজনন  বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। এর কারণে আমাদের জালে কোন মাছ ধরা পড়তেছে না। মাহজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছি। এখন দেশ ছেড়ে পালানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। 

জেলে ফারুক বলেন, অবৈধ টংলিং বোর্ডগুলোর সাগরে জাল ফেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে ফেলে । আমরা যারা সাধারণ জেলে আছি আমাদের জালে একটা মাছ ধরা পড়ে না।  এজন্য 

পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন কিস্তি দিতে পারছি না। ভাবছি পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরি কাজ শুরু করবো।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ট্রলিংয়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় বোট মালিকদের নোটিশ দিয়েছি। ইতোমধ্যেই তিনটি বোট জব্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাহারা সমুদ্রে মাছ শিকার করার আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছেন। আশাকরছি খুব শীঘ্রই রিট আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তারপর আমরা পুরোদমে ট্রলিং বন্ধের জন্য অভিযান শুরু করবো।