ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

কলেজ শিক্ষার্থীর  ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদনে সাফল্য,কেঁচো বিক্রি করে মাসে আয় ৪০ হাজার টাকা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,২১ জুলাই
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কেঁচো বিক্রি করেই এক তরুণ মাসিক আয় করছেন ৪০ হাজার টাকা। শুধু ভালো রোজগার করছেন এমনটাই নয়, এই তরুণ উদ্যোক্তার উৎপাদিত ভার্মিকম্পোষ্ট এতোটাই পরিবেশ বান্ধব যে তার কেঁচো সার ব্যবহার করে কৃষিতেও লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী নাচনাপাড়া এলাকার কলেজ পড়ুয়া চিন্ময় রায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগ থেকে এসএসিপির প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরুতে স্বল্প পরিসরে শেড তৈরি করেন তিনি। পরে নিজ গোয়াল থেকেই গরুর গোবর সংগ্রহ করে পদ্ধতিগত মিশ্রণের পর সেখানে ছেড়ে দেন রেড উইগলার প্রজাতির কেঁচো। আর তা থেকেই শুরু হয় এই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। 

প্রথমে পরিবারের সহযোগিতায় উৎপাদন শুরু হলেও এখন তার কেঁচো সার উৎপাদন খামারে কাজ করেন চারজন শ্রমিক। আর এখন অন্তত অর্ধশতাধিক শেডেই প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে বিষমুক্ত ভার্মিকম্পোষ্ট সার। যা রাসায়নিক সারের চেয়ে কয়েকগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন। আর তা কৃষিতে ব্যবহার করে ভালো ফসল উৎপাদন করছেন চাষিরা। 

এই খামার থেকে সার নিতে আসা বিধান চন্দ্র জানান, তার ছাদ বাগানসহ বেশ কয়েকটি ছোট বড় ফলজ বাগান রয়েছে। এছাড়া স্বল্প পরিসরে সবজি উৎপাদনও করেন তিনি। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করলেও এখন প্রাকৃতিক কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। এতে বিষমুক্ত ফসল ফলাতে পারছেন। আর মাটির উর্বরতা বাড়ছে। এছাড়া ড্রাম ও ট্রে পদ্ধতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে গুণগতমান সম্পন্ন সার উৎপাদন  করেন। এদিকে নিজ উদ্যোগে খামার স্থাপনের লক্ষ্যে  চিন্ময়ের খামারের শ্রমিকরাও নিচ্ছেন প্রশিক্ষণ। 

এই খামারের শ্রমিক শ্যামল জানান, তারা কাজের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ছোট উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে শেড তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এতে কোনো লোকশানের ঝুকি না থাকায় খুব শীঘ্রই সার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবেন।

শ্রমিক সমীর জানান,এই খামারে কাজ করে প্রতিদিন ৭০০ টাকা করে পাই। এতে আমার সংসার ছেলে মেয়ের লেখাপড়া মোটামুটি ভালই চলে। এই খামার আমি নিজে করার কথা ভাবছি। কারণ কম খরচে, অধিক লাভ এজন্য। 

তবে কেচোঁ সার উৎপাদনের কাজে শুধু শ্রমিক নয়, অবসর সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিজ্ঞান বিভাগে কলেজ পড়ুয়া চিন্ময়ের ছোট বোন অর্পিতা রায়। তিনি বলেন, এই সার সম্মন্ধে আমি জানার পর আমার আগ্রহ আরো বেড়েছে। মানবদেহের জন্য রাসায়নিক সার ঝুকিপূর্ণ। তাই দেশের সব কৃষিতে এই সার ব্যবহারে সম্প্রসারণ ঘটলে মানুষ নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে অনেকাংশে বিষমুক্ত খাবার খেতে পারবে।

উদ্যোক্তা চিন্ময় রায়ের লক্ষ্য রাসায়নিক সার ব্যবহার থেকে কৃষকদের সরিয়ে নেয়া। তিনি বলেন, আমি এখন ভাবছি কম বেশি সবাই যেন এই সার উৎপাদন করে। অন্তত নিজ ফসলের ক্ষেতের জন্য হলেও এখনই উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। এছাড়া তিনি বলেন, আপাতত আমার মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তবে এই খামারে আরো শেড বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। 

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, চিন্ময়কে আমরা প্রথমে এসএসিপির মাধ্যমে প্রদর্শনী দিয়ে শেড দেই।  

চিন্ময়ের খামার ইতোমধ্যে বেশ সারা ফেলেছে। বিশেষ করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রাবন্দরে কৃষিতে তার শতাধিক মন সার বিক্রি হয়। কেঁচো সার উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ভার্মিকম্পোষ্ট সার মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি উচ্চমানের ফসল উৎপাদনে একটি আশার বার্তা।

এছাড়া আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদনে এই উপকূলীয় অঞ্চলের খামার সম্প্রসারণ এর উদ্যোগ নিয়েছি।  

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলেজ শিক্ষার্থীর  ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদনে সাফল্য,কেঁচো বিক্রি করে মাসে আয় ৪০ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ০২:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

কেঁচো বিক্রি করেই এক তরুণ মাসিক আয় করছেন ৪০ হাজার টাকা। শুধু ভালো রোজগার করছেন এমনটাই নয়, এই তরুণ উদ্যোক্তার উৎপাদিত ভার্মিকম্পোষ্ট এতোটাই পরিবেশ বান্ধব যে তার কেঁচো সার ব্যবহার করে কৃষিতেও লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী নাচনাপাড়া এলাকার কলেজ পড়ুয়া চিন্ময় রায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগ থেকে এসএসিপির প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরুতে স্বল্প পরিসরে শেড তৈরি করেন তিনি। পরে নিজ গোয়াল থেকেই গরুর গোবর সংগ্রহ করে পদ্ধতিগত মিশ্রণের পর সেখানে ছেড়ে দেন রেড উইগলার প্রজাতির কেঁচো। আর তা থেকেই শুরু হয় এই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। 

প্রথমে পরিবারের সহযোগিতায় উৎপাদন শুরু হলেও এখন তার কেঁচো সার উৎপাদন খামারে কাজ করেন চারজন শ্রমিক। আর এখন অন্তত অর্ধশতাধিক শেডেই প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে বিষমুক্ত ভার্মিকম্পোষ্ট সার। যা রাসায়নিক সারের চেয়ে কয়েকগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন। আর তা কৃষিতে ব্যবহার করে ভালো ফসল উৎপাদন করছেন চাষিরা। 

এই খামার থেকে সার নিতে আসা বিধান চন্দ্র জানান, তার ছাদ বাগানসহ বেশ কয়েকটি ছোট বড় ফলজ বাগান রয়েছে। এছাড়া স্বল্প পরিসরে সবজি উৎপাদনও করেন তিনি। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করলেও এখন প্রাকৃতিক কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। এতে বিষমুক্ত ফসল ফলাতে পারছেন। আর মাটির উর্বরতা বাড়ছে। এছাড়া ড্রাম ও ট্রে পদ্ধতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে গুণগতমান সম্পন্ন সার উৎপাদন  করেন। এদিকে নিজ উদ্যোগে খামার স্থাপনের লক্ষ্যে  চিন্ময়ের খামারের শ্রমিকরাও নিচ্ছেন প্রশিক্ষণ। 

এই খামারের শ্রমিক শ্যামল জানান, তারা কাজের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ছোট উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে শেড তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এতে কোনো লোকশানের ঝুকি না থাকায় খুব শীঘ্রই সার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবেন।

শ্রমিক সমীর জানান,এই খামারে কাজ করে প্রতিদিন ৭০০ টাকা করে পাই। এতে আমার সংসার ছেলে মেয়ের লেখাপড়া মোটামুটি ভালই চলে। এই খামার আমি নিজে করার কথা ভাবছি। কারণ কম খরচে, অধিক লাভ এজন্য। 

তবে কেচোঁ সার উৎপাদনের কাজে শুধু শ্রমিক নয়, অবসর সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিজ্ঞান বিভাগে কলেজ পড়ুয়া চিন্ময়ের ছোট বোন অর্পিতা রায়। তিনি বলেন, এই সার সম্মন্ধে আমি জানার পর আমার আগ্রহ আরো বেড়েছে। মানবদেহের জন্য রাসায়নিক সার ঝুকিপূর্ণ। তাই দেশের সব কৃষিতে এই সার ব্যবহারে সম্প্রসারণ ঘটলে মানুষ নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে অনেকাংশে বিষমুক্ত খাবার খেতে পারবে।

উদ্যোক্তা চিন্ময় রায়ের লক্ষ্য রাসায়নিক সার ব্যবহার থেকে কৃষকদের সরিয়ে নেয়া। তিনি বলেন, আমি এখন ভাবছি কম বেশি সবাই যেন এই সার উৎপাদন করে। অন্তত নিজ ফসলের ক্ষেতের জন্য হলেও এখনই উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। এছাড়া তিনি বলেন, আপাতত আমার মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তবে এই খামারে আরো শেড বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। 

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, চিন্ময়কে আমরা প্রথমে এসএসিপির মাধ্যমে প্রদর্শনী দিয়ে শেড দেই।  

চিন্ময়ের খামার ইতোমধ্যে বেশ সারা ফেলেছে। বিশেষ করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রাবন্দরে কৃষিতে তার শতাধিক মন সার বিক্রি হয়। কেঁচো সার উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ভার্মিকম্পোষ্ট সার মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি উচ্চমানের ফসল উৎপাদনে একটি আশার বার্তা।

এছাড়া আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদনে এই উপকূলীয় অঞ্চলের খামার সম্প্রসারণ এর উদ্যোগ নিয়েছি।