ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরী নানা সমস্যায় জর্জরিত।

মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অতিরিক্ত করের বোঝা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরী। বিভিন্ন খাতে কর দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বড়বাড়ি-লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের পাশে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়ী ইউনিয়নের ১৫.৬০ একর জমির ওপর ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী লালমনিরহাট।

প্রতিষ্ঠার ৩৮বছরেও বিসিক এলাকায় স্থাপন করা হয়নি সড়কবাতি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শিল্পনগরীতে প্রবেশের প্রধান প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সব সড়কে সারা বছর পানি জমে থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক চলে যায় হাঁটু পানির নিচে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি অভ্যন্তরীণ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

জানা যায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীর মোট ১শত ৮টি প্লট তৈরির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে বিসিকের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। ৩৪টি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার জন্য সব প্লট বরাদ্দ নেন আগ্রহীরা। কিন্তু বর্তমানে ১টি প্লাস্টিক কারখানা, ২টি তারকাটা ফ্যাক্টরি, ১টি ময়দা মিল, ১টি হিমাগারসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। নির্মানাধীন/ নির্মান কাজ শুরু হয়নি ৯টি। বন্ধ রয়েছে ৯টি। বরাদ্দের অপেক্ষায় প্লট সংখ্যা (অনুন্নত) রয়েছে ৪টি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অব্যাহত লোকসান, বিদ্যুৎ সংঙ্কটসহ নানামুখী সমস্যায় বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি কারখানা।

৪বছর আগে প্রতি শতাংশ জমির ইজারা নিতে-দিতে হতো মাত্র ৫হাজার টাকা। আর বর্তমানে সেখানে ৬২হাজার টাকা দিতে হয়। তাই আগ্রহীরা বিসিক শিল্পনগরীতে তাদের শিল্প কল কালখানা স্থাপন করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

বিসিক শিল্পনগরীর প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
ভৌত অবকাঠামোর অভাব: রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা একটি সাধারণ সমস্যা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট: শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না, সেই সাথে গ্যাস সরবরাহ নেই। যা উৎপাদন ব্যাহত করে।
নিরাপত্তা সংকট: পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে চুরি, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঘটে থাকে।

অর্থায়ন সমস্যা: শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত প্লট ও স্থান সংকট: শিল্পনগরীতে প্লট সংকট দেখা যায়, যা নতুন শিল্প স্থাপনকে কঠিন করে তোলে।


দূষণ সমস্যা: শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ইটিপি এর অভাবে পরিবেশ দূষণ একটি বড় সমস্যা।
অতিরিক্ত করের বোঝা: শিল্পোদ্যোক্তাদের উপর বিভিন্ন ধরনের করের বোঝা একটি উদ্বেগের কারণ।

কর্মকর্তাদের অবহেলা: অনেক ক্ষেত্রে বিসিক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে সমস্যাগুলি আরও প্রকট হয়। এই সমস্যাগুলোর কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা না গেলে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিসিক শিল্পনগরীর ভূমিকা কমে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরী নানা সমস্যায় জর্জরিত।

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

অতিরিক্ত করের বোঝা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরী। বিভিন্ন খাতে কর দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বড়বাড়ি-লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের পাশে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়ী ইউনিয়নের ১৫.৬০ একর জমির ওপর ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী লালমনিরহাট।

প্রতিষ্ঠার ৩৮বছরেও বিসিক এলাকায় স্থাপন করা হয়নি সড়কবাতি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শিল্পনগরীতে প্রবেশের প্রধান প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সব সড়কে সারা বছর পানি জমে থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক চলে যায় হাঁটু পানির নিচে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি অভ্যন্তরীণ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

জানা যায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীর মোট ১শত ৮টি প্লট তৈরির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে বিসিকের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। ৩৪টি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার জন্য সব প্লট বরাদ্দ নেন আগ্রহীরা। কিন্তু বর্তমানে ১টি প্লাস্টিক কারখানা, ২টি তারকাটা ফ্যাক্টরি, ১টি ময়দা মিল, ১টি হিমাগারসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। নির্মানাধীন/ নির্মান কাজ শুরু হয়নি ৯টি। বন্ধ রয়েছে ৯টি। বরাদ্দের অপেক্ষায় প্লট সংখ্যা (অনুন্নত) রয়েছে ৪টি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অব্যাহত লোকসান, বিদ্যুৎ সংঙ্কটসহ নানামুখী সমস্যায় বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি কারখানা।

৪বছর আগে প্রতি শতাংশ জমির ইজারা নিতে-দিতে হতো মাত্র ৫হাজার টাকা। আর বর্তমানে সেখানে ৬২হাজার টাকা দিতে হয়। তাই আগ্রহীরা বিসিক শিল্পনগরীতে তাদের শিল্প কল কালখানা স্থাপন করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

বিসিক শিল্পনগরীর প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
ভৌত অবকাঠামোর অভাব: রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা একটি সাধারণ সমস্যা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট: শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না, সেই সাথে গ্যাস সরবরাহ নেই। যা উৎপাদন ব্যাহত করে।
নিরাপত্তা সংকট: পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে চুরি, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঘটে থাকে।

অর্থায়ন সমস্যা: শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত প্লট ও স্থান সংকট: শিল্পনগরীতে প্লট সংকট দেখা যায়, যা নতুন শিল্প স্থাপনকে কঠিন করে তোলে।


দূষণ সমস্যা: শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ইটিপি এর অভাবে পরিবেশ দূষণ একটি বড় সমস্যা।
অতিরিক্ত করের বোঝা: শিল্পোদ্যোক্তাদের উপর বিভিন্ন ধরনের করের বোঝা একটি উদ্বেগের কারণ।

কর্মকর্তাদের অবহেলা: অনেক ক্ষেত্রে বিসিক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে সমস্যাগুলি আরও প্রকট হয়। এই সমস্যাগুলোর কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা না গেলে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিসিক শিল্পনগরীর ভূমিকা কমে যেতে পারে।