ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক   ৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষির স্বর্গরাজ্য পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬  ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ পুরস্কার পেলেন কলাপাড়া থানার এএসআই জসিম আকন।

কলাপাড়ায় মসজিদ-মন্দির উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী )প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বরাদ্দকৃত মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন তহবিলের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার দিকে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এলজিইডির আওতায় কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পূর্ব আলিপুর গ্রামে ‘বায়তুল বিলকিস জামে মসজিদে’ উন্নয়ন কাজের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, এই কাজের ঠিকাদার ছিলেন কলাপাড়ার কবির মৃধা।

মসজিদ কমিটি কাজটি ভালোভাবে করার লক্ষ্যে এলজিইডি’ কলাপাড়া অফিস ও ঠিকাদারের সাথে সমন্বয় করে নিজেরাই কাজটি করেছেন, অথচ ঠিকাদার এখন মসজিদ কর্তৃপক্ষকে এক লক্ষ টাকার বেশি দিতে চাচ্ছে না এমন অভিযোগ মসজিদ কর্তৃপক্ষের।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান জানান, ‘‘ঠিকাদার ও অফিসের সাথে  সমন্বয় করে আমরা নিজেরাই কাজটি করি। যদিও এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে কিন্তু তিনি শুধু এক লাখ টাকা দেন এবং বলেন, আর কোনো টাকা দিতে পারবেন না।’

এ বিষয়ে এলাকার মুসুল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বর্তমানে তো দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। সরকার গঠনের আগেই এই বরাদ্দ এসেছে। তাহলে পুরো বরাদ্দের অর্থ সরাসরি মসজিদের কাজেই খরচ হওয়া উচিত ছিল। এই অবস্থায়ও যদি ঠিকাদার টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্নীতি ঘটতে পারে।’’এ রকম অভিযোগ শুধু পূর্ব আলিপুর মসজিদেই নয়, কলাপাড়া উপজেলার একাধিক মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।

“এ বিষয়ে ঠিকাদার কবির মৃধা বলেন, ‘তিন লাখ টাকার একটি প্রকল্পে পাঁচ শতাংশ লেস ও ভ্যাট কেটে আমার হাতে এসেছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকার চেক। এরমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে নির্ধারিত খরচ রয়েছে, পাশাপাশি অফিসিয়াল আরও কিছু ব্যয় বহন করতে হয়। সব কিছু মিলিয়ে এ সকল খরচ  মেটানোর পর এক লক্ষ টাকার বেশি দেয়ার সুযোগ কোথায়?'”

এই ব্যাপারে এলজিইডি পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হোসেন আলী মীর বলেন, “আমার অফিসে বা উপজেলার কোথাও এক টাকাও ঘুষ দেয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কেউ বলে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে শুধু ভ্যাট খরচ বাদ দিয়ে ঠিকাদারের কিছু ব্যবসা রেখে বাকি পুরো অর্থ মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার কোন সুযোগই নেই ।”

এদিকে এলাকা জুড়ে এ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়ায় মসজিদ-মন্দির উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বরাদ্দকৃত মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন তহবিলের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার দিকে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এলজিইডির আওতায় কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পূর্ব আলিপুর গ্রামে ‘বায়তুল বিলকিস জামে মসজিদে’ উন্নয়ন কাজের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, এই কাজের ঠিকাদার ছিলেন কলাপাড়ার কবির মৃধা।

মসজিদ কমিটি কাজটি ভালোভাবে করার লক্ষ্যে এলজিইডি’ কলাপাড়া অফিস ও ঠিকাদারের সাথে সমন্বয় করে নিজেরাই কাজটি করেছেন, অথচ ঠিকাদার এখন মসজিদ কর্তৃপক্ষকে এক লক্ষ টাকার বেশি দিতে চাচ্ছে না এমন অভিযোগ মসজিদ কর্তৃপক্ষের।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান জানান, ‘‘ঠিকাদার ও অফিসের সাথে  সমন্বয় করে আমরা নিজেরাই কাজটি করি। যদিও এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে কিন্তু তিনি শুধু এক লাখ টাকা দেন এবং বলেন, আর কোনো টাকা দিতে পারবেন না।’

এ বিষয়ে এলাকার মুসুল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বর্তমানে তো দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। সরকার গঠনের আগেই এই বরাদ্দ এসেছে। তাহলে পুরো বরাদ্দের অর্থ সরাসরি মসজিদের কাজেই খরচ হওয়া উচিত ছিল। এই অবস্থায়ও যদি ঠিকাদার টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্নীতি ঘটতে পারে।’’এ রকম অভিযোগ শুধু পূর্ব আলিপুর মসজিদেই নয়, কলাপাড়া উপজেলার একাধিক মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।

“এ বিষয়ে ঠিকাদার কবির মৃধা বলেন, ‘তিন লাখ টাকার একটি প্রকল্পে পাঁচ শতাংশ লেস ও ভ্যাট কেটে আমার হাতে এসেছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকার চেক। এরমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে নির্ধারিত খরচ রয়েছে, পাশাপাশি অফিসিয়াল আরও কিছু ব্যয় বহন করতে হয়। সব কিছু মিলিয়ে এ সকল খরচ  মেটানোর পর এক লক্ষ টাকার বেশি দেয়ার সুযোগ কোথায়?'”

এই ব্যাপারে এলজিইডি পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হোসেন আলী মীর বলেন, “আমার অফিসে বা উপজেলার কোথাও এক টাকাও ঘুষ দেয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কেউ বলে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে শুধু ভ্যাট খরচ বাদ দিয়ে ঠিকাদারের কিছু ব্যবসা রেখে বাকি পুরো অর্থ মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার কোন সুযোগই নেই ।”

এদিকে এলাকা জুড়ে এ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।