ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

তামাকজাত দ্রব্য ও ধূমপায়ীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে।

মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন, ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভায় ধূমপান বিরোধী তৎপরতা ও আইনের প্রয়োগ নেই। তামাকজাত দ্রব্য সেবন ও ধূমপায়ীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে।

প্রকাশ্যে ধূমপান বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হলেও এর কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হয় না। নীতি-নৈতিকতার অভাব, কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, ফ্যাশন হিসেবে মনে করা, সচেতনতার অভাবসহ সহজলভ্য হওয়ায় ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশে তামাকজাত দ্রব্য থেকে রাজস্ব পাচ্ছে ৭হাজার কোটি টাকা। আর ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগের পিছনে ব্যয় করছে বছরে ১১হাজার কোটি টাকা। আইন প্রণয়ন করা হলেও প্রকাশ্যে ধূমপানের অভ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক হারে। বয়স্ক মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্য সেবনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় আইনে নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যেই চলছে এসব কার্যক্রম। বিড়ি-সিগারেটের কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য লালমনিরহাট জেলার হাট-বাজারে বিক্রর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে লোভনীয় অফার দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ধূমপানের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। এসব কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা যেসব স্থানে বেশি সংখ্যক শ্রমিকরা কাজ করে সেসব স্থানে গিয়ে তাদের ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট করতে বিনামূল্যে বিড়ি-সিগারেট বিতরণ করে থাকে । বিনামূল্যে বিড়ি-সিগারেট খেতে খেতে এক সময় অভ্যস্ত হয়ে নিজেরা পকেটের টাকা দিয়ে বিড়ি-সিগারেট কিনে খাওয়া শুরু করে।

প্রকাশ্যে ধূমপান ও তামাক কোম্পানির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা তেমন না নেওয়ায় অবাধে এ অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ধূমপায়ীরা প্রত্যক্ষভাবে এবং ধূমপারীর আশপাশে থাকা অধুমপায়ীরাও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধূমপায়ীর পরিবারের শিশু ও নারীরা। কারণ বাড়ির কর্তাব্যক্তি বাড়িতে বসে ধূমপান করলে তখন বাড়ির শিশু ও নারীদের ক্ষতির শিকার হতে হয়। তাছাড়া ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের দিয়ে বিড়ি-সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় আইনে নিষিদ্ধ হলেও লালমনিরহাট জেলার কোথাও মানা হয় না এ আইন।

সাধারণত হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানে শিশুরাই কাজ করে। আর তারাই তামাকজাত দ্রব্যের আনা নেয়া করে থাকে। তাছাড়া পানের দোকানে অবাধে নানা প্রকার ক্ষতিকর জর্দা, গুল বিক্রি হলেও এ ব্যাপারে কোন আইনি পদক্ষেপ দেখা যায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিড়ি- সিগারেটের ধুয়াসহ তামাকজাত দ্রব্যে ৪হাজারের বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। ভাষাক সেবনের ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫৭হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করে। আর তামাকের কারণে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১১হাজার কোটি টাকা। পক্ষান্তরে এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে ৭হাজার কোটি টাকা। ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতার শিক্ষাদান, তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এর হাত থেকে উত্তোরণ সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তামাকজাত দ্রব্য ও ধূমপায়ীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে।

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন, ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভায় ধূমপান বিরোধী তৎপরতা ও আইনের প্রয়োগ নেই। তামাকজাত দ্রব্য সেবন ও ধূমপায়ীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে।

প্রকাশ্যে ধূমপান বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হলেও এর কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হয় না। নীতি-নৈতিকতার অভাব, কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, ফ্যাশন হিসেবে মনে করা, সচেতনতার অভাবসহ সহজলভ্য হওয়ায় ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশে তামাকজাত দ্রব্য থেকে রাজস্ব পাচ্ছে ৭হাজার কোটি টাকা। আর ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগের পিছনে ব্যয় করছে বছরে ১১হাজার কোটি টাকা। আইন প্রণয়ন করা হলেও প্রকাশ্যে ধূমপানের অভ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক হারে। বয়স্ক মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্য সেবনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় আইনে নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যেই চলছে এসব কার্যক্রম। বিড়ি-সিগারেটের কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য লালমনিরহাট জেলার হাট-বাজারে বিক্রর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে লোভনীয় অফার দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ধূমপানের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। এসব কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা যেসব স্থানে বেশি সংখ্যক শ্রমিকরা কাজ করে সেসব স্থানে গিয়ে তাদের ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট করতে বিনামূল্যে বিড়ি-সিগারেট বিতরণ করে থাকে । বিনামূল্যে বিড়ি-সিগারেট খেতে খেতে এক সময় অভ্যস্ত হয়ে নিজেরা পকেটের টাকা দিয়ে বিড়ি-সিগারেট কিনে খাওয়া শুরু করে।

প্রকাশ্যে ধূমপান ও তামাক কোম্পানির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা তেমন না নেওয়ায় অবাধে এ অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ধূমপায়ীরা প্রত্যক্ষভাবে এবং ধূমপারীর আশপাশে থাকা অধুমপায়ীরাও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধূমপায়ীর পরিবারের শিশু ও নারীরা। কারণ বাড়ির কর্তাব্যক্তি বাড়িতে বসে ধূমপান করলে তখন বাড়ির শিশু ও নারীদের ক্ষতির শিকার হতে হয়। তাছাড়া ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের দিয়ে বিড়ি-সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় আইনে নিষিদ্ধ হলেও লালমনিরহাট জেলার কোথাও মানা হয় না এ আইন।

সাধারণত হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানে শিশুরাই কাজ করে। আর তারাই তামাকজাত দ্রব্যের আনা নেয়া করে থাকে। তাছাড়া পানের দোকানে অবাধে নানা প্রকার ক্ষতিকর জর্দা, গুল বিক্রি হলেও এ ব্যাপারে কোন আইনি পদক্ষেপ দেখা যায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিড়ি- সিগারেটের ধুয়াসহ তামাকজাত দ্রব্যে ৪হাজারের বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। ভাষাক সেবনের ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫৭হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করে। আর তামাকের কারণে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১১হাজার কোটি টাকা। পক্ষান্তরে এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে ৭হাজার কোটি টাকা। ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতার শিক্ষাদান, তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এর হাত থেকে উত্তোরণ সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।