ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিরাজগঞ্জে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় পলাতক নানা পাটেকরের প্রয়াণে তনুশ্রী দত্তের মন্তব্যে তোলপাড় বলিউড: অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা কলাপাড়ার লেমুপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ, ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি। দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড়: মোদী সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর লালমনিরহাটে বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া দুই নারী নিহত শুভ মহালয়া আজ: বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা জোরদার বাংলাদেশে মব-সংস্কৃতি: জনরোষ নাকি বিচারহীনতার সুযোগে সংগঠিত সন্ত্রাস? কলাপাড়ায় নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ল আরও ৫ দিন আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম সেশনেই দুর্দান্ত সূচনা বাংলাদেশের

মারা গেলেন শেষ ঠিকানার কারিগর খ্যাত কিশোরগঞ্জের মনু মিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ২২৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত মনু মিয়া। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা দীর্ঘ জীবনে তিন হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করেছিলেন।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. মনু মিয়া (৬৭)। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর।

জীবনের প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের এই মহান কাজ করে আসছিলেন মনু মিয়া। আশপাশের গ্রাম ও জেলাজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে।

একসময় তিনি এই কাজে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। সেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে পৌঁছে যেতেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে।

ঢাকার আইনজীবী ও এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা জানান, অসুস্থ অবস্থায় তিনি কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রোকন রেজা বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে বলেছিলাম, অনেকে আপনাকে নতুন ঘোড়া কিনে দিতে চায়। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।’

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আর আগের মতো হয়ে উঠেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিঃস্বার্থ, মহান মানুষকে হারালাম।’

স্থানীয়রা জানান, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে তাকে।

তারা বলেন, মৃত্যুর পরও বহু মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন মনু মিয়া।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম সেশনেই দুর্দান্ত সূচনা বাংলাদেশের

09 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
BD Songlap। বাংলাদেশ সংলাপ
www.bangladeshsonglap.com

মারা গেলেন শেষ ঠিকানার কারিগর খ্যাত কিশোরগঞ্জের মনু মিয়া

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত মনু মিয়া। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা দীর্ঘ জীবনে তিন হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করেছিলেন।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. মনু মিয়া (৬৭)। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর।

জীবনের প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের এই মহান কাজ করে আসছিলেন মনু মিয়া। আশপাশের গ্রাম ও জেলাজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে।

একসময় তিনি এই কাজে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। সেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে পৌঁছে যেতেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে।

ঢাকার আইনজীবী ও এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা জানান, অসুস্থ অবস্থায় তিনি কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রোকন রেজা বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে বলেছিলাম, অনেকে আপনাকে নতুন ঘোড়া কিনে দিতে চায়। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।’

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আর আগের মতো হয়ে উঠেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিঃস্বার্থ, মহান মানুষকে হারালাম।’

স্থানীয়রা জানান, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে তাকে।

তারা বলেন, মৃত্যুর পরও বহু মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন মনু মিয়া।

Share this news as a Photo Card