ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালাপাড়ায় চুক্তিপত্র জালিয়াতি করে কৃষকের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবসে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান কলাপাড়ায় সরকারি বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে পরীক্ষা নিলেন ইউএনও কলাপাড়ায় ইউএনওর গাড়ি চালক আফজালের অনৈতিক কাজের ভিডিও ফাঁস- সমালোচনার ঝড় কলাপাড়ায় ইউএনও গাড়িচালকের অনৈতিক কাজের ভিডিও ফাঁস—সমালোচনার ঝড়। কিডনি রোগে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী আঁখি, চিকিৎসার জন্য মানবিক সহায়তা প্রয়োজন  আমরা চাইনা বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়মীলীগ লোক বিনা অপরাধে জেল খাটকু…. মোশাররফ হোসেন কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের বাবা ছেলে ছেলেকে পিটিয়ে জখম বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তিকে ফেমিলি কার্ড করে দেওয়া হবে …..মোশাররফ হোসেন কলাপাড়ায় ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা, ৬ লাখ টাকা আদায়

মারা গেলেন শেষ ঠিকানার কারিগর খ্যাত কিশোরগঞ্জের মনু মিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত মনু মিয়া। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা দীর্ঘ জীবনে তিন হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করেছিলেন।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. মনু মিয়া (৬৭)। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর।

জীবনের প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের এই মহান কাজ করে আসছিলেন মনু মিয়া। আশপাশের গ্রাম ও জেলাজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে।

একসময় তিনি এই কাজে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। সেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে পৌঁছে যেতেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে।

ঢাকার আইনজীবী ও এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা জানান, অসুস্থ অবস্থায় তিনি কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রোকন রেজা বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে বলেছিলাম, অনেকে আপনাকে নতুন ঘোড়া কিনে দিতে চায়। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।’

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আর আগের মতো হয়ে উঠেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিঃস্বার্থ, মহান মানুষকে হারালাম।’

স্থানীয়রা জানান, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে তাকে।

তারা বলেন, মৃত্যুর পরও বহু মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন মনু মিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মারা গেলেন শেষ ঠিকানার কারিগর খ্যাত কিশোরগঞ্জের মনু মিয়া

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত মনু মিয়া। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা দীর্ঘ জীবনে তিন হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করেছিলেন।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. মনু মিয়া (৬৭)। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর।

জীবনের প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের এই মহান কাজ করে আসছিলেন মনু মিয়া। আশপাশের গ্রাম ও জেলাজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে।

একসময় তিনি এই কাজে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। সেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে পৌঁছে যেতেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে।

ঢাকার আইনজীবী ও এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা জানান, অসুস্থ অবস্থায় তিনি কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রোকন রেজা বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে বলেছিলাম, অনেকে আপনাকে নতুন ঘোড়া কিনে দিতে চায়। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।’

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আর আগের মতো হয়ে উঠেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিঃস্বার্থ, মহান মানুষকে হারালাম।’

স্থানীয়রা জানান, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে তাকে।

তারা বলেন, মৃত্যুর পরও বহু মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন মনু মিয়া।