ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১। মহিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৬০ ইয়াবাসহ আটক-৩ কলাপাড়ার বিএনপি’র নেতা তোফাজ্জল ভিজিএফের চাল বিতরনে চালবাজি  কলাপাড়ায় ১দিন আগেই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন পায়ে হেটে ৪ শিক্ষার্থীর ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমন সাংবাদিক তুহিনের উপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা রঙীন পোষ্টারে কলাপাড়া পৌরবাসীকে মেয়র প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার হিড়িক   ৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষির স্বর্গরাজ্য পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬  ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ পুরস্কার পেলেন কলাপাড়া থানার এএসআই জসিম আকন।

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, পায়রায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ৬০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে কুয়াকাটা সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা চার জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর উপকূলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীসহ আশপাশের এলাকায় গতকাল রাত থেকে থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুররা। বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। এজন্য পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

তবে গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিপাত। গতকাল সকাল নয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কলাপাড়ায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ১২১.২  মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং আগামী পাঁচ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। 

মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা উপকূলে নিরাপদে ফিরে এসেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “বঙ্গোপসাগরে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে মৎস্যজীবীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”

আলিপুর মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি জলিল ঘরামী বলেন, সমুদ্র বেশ উত্তাল থাকায় অনেক ট্রলার ঘাটে আসতে শুরু করেছে। তবে কিছু ট্রলার সমুদ্রে রয়েছেন। তারাও তীরে ফিরতে শুরু করেছে। ফিরত ট্রলার গুলো অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।

এদিকে দিনমজুর আব্দুর জব্বার বলেন, আমরা দিনমজুর কাজ করে খাই। টানা বৃষ্টির  ফলে আমাদের কাম কাজ নাই বললেই চলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে  কোন রকম বেঁচে আছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মরণ ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। 

কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রী  কলেজের প্রভাষক নিখিল চৌধুরী  বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের বাসা বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাবো তাও পাঠাতে পারছিনা। অনেক ভোগান্তিতে আছি। 

ট্যূরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, সমুদ্র কিছুটা উত্তাল রয়েছে, আগত পর্যটকদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, জুন মাসে বর্ষা মৌসুমে এমন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও, সাগরের এ ধরনের অস্বাভাবিক উত্তাল অবস্থা মৎস্যজীবীসহ উপকূলবাসীর জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, পায়রায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আপডেট সময় : ০২:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে কুয়াকাটা সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা চার জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর উপকূলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীসহ আশপাশের এলাকায় গতকাল রাত থেকে থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুররা। বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। এজন্য পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

তবে গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিপাত। গতকাল সকাল নয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কলাপাড়ায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ১২১.২  মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং আগামী পাঁচ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। 

মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা উপকূলে নিরাপদে ফিরে এসেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “বঙ্গোপসাগরে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে মৎস্যজীবীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”

আলিপুর মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি জলিল ঘরামী বলেন, সমুদ্র বেশ উত্তাল থাকায় অনেক ট্রলার ঘাটে আসতে শুরু করেছে। তবে কিছু ট্রলার সমুদ্রে রয়েছেন। তারাও তীরে ফিরতে শুরু করেছে। ফিরত ট্রলার গুলো অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।

এদিকে দিনমজুর আব্দুর জব্বার বলেন, আমরা দিনমজুর কাজ করে খাই। টানা বৃষ্টির  ফলে আমাদের কাম কাজ নাই বললেই চলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে  কোন রকম বেঁচে আছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মরণ ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। 

কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রী  কলেজের প্রভাষক নিখিল চৌধুরী  বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের বাসা বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাবো তাও পাঠাতে পারছিনা। অনেক ভোগান্তিতে আছি। 

ট্যূরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, সমুদ্র কিছুটা উত্তাল রয়েছে, আগত পর্যটকদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, জুন মাসে বর্ষা মৌসুমে এমন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও, সাগরের এ ধরনের অস্বাভাবিক উত্তাল অবস্থা মৎস্যজীবীসহ উপকূলবাসীর জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।