ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

কলাপাড়ায় চিঁ চিঁ শব্দে মুখর বাদুড়ের সাম্রাজ্যখ্যাত মুন্সি বাড়ি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫ ২২৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের সোলায়মান মুন্সির বাড়িটি যেন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি বাদুড়ের চিঁ চিঁ শব্দে মুখর থাকা যায়গাটি হয়ে উঠেছে বাদুড়ের সাম্রাজ্য। হাজার হাজার বাদুড় রেইনট্রি, তেতুল গাছ আর তালগাছে ঝুলে আছে। গাছে পাতা নয়, শুধুই বাদুড় আর বাদুড়। ছুটে চলে এ দিক সেদিক। এ যেন বাড়ী নয়, যেন বাদুড়ের রাজ্য।

উঁচু গাছের ডালে ডালে বাদুড়ের ঝুলে থাকা ছিল এক সময়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। নিশাচর প্রাণী হিসেবে এদের ছিল অবাধ ছুটে চলা। রাত হলেই যে কোন ফলের প্রতি আক্রমণ ছিল এদের কাজ। এমন দৃশ্য আর তেমন চোখে পড়েনা। নির্জন গাছ পালা, খাবার আর গরমের তীব্রতা বাড়ায় এদের উপস্থিতি কমছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসত বাড়ীর পিছনে পুকুরের ধারে রয়েছে গাছ গাছালি।  সেই গাছে চোখ দিলেই দেখা যায় পা উপরে তুলে নিচে মাথা দিয়ে ঝুলে আছে বাদুড়। পা যেন গাছের সাথে হুক দিয়ে আটকে রাখা।  নিশাচর প্রাণীগুলো রাত হলে খাবারের সন্ধ্যানে বের হয়ে যায় আর ভোরের আলো উঁকি দেওয়ার সাথে সাথে চলে আসে হাজার হাজার বাদুড় নীড়ে। চিঁ চিঁ শব্দ আর প্রাণপণ ছুটে চলার দৃশ্য প্রায় দুই যুগ ধরে । এগুলোকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করেন বাড়ীর মালিক।

স্থানীয়রা আর বাড়ীর পাশে প্রতিবেশীরাও অভ্যস্থ হয়ে গেছে এমন দৃশ্য দেখে। তাদেরও ঘুম আসেনা বাদুড়ের চিঁ চিঁ শব্দ ছাড়া। একটা সময় বাদুড়কে বিরক্ত করলেও এখন বাদুড় সচরাচর চোখে না পড়ার কারনে শিক্ষার্থীসহ গ্রামের লোকজন মাঝে মাঝে বাদুড় দেখতে এ বাড়িতে ছুটে আসে।

প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমারা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি তাদের ডাকাডাকি শুনতে শুনতে। তাদের ডাকাডাকি শুনে ঘুম পড়ি আর তাদের ডাকাডাকি শুনে ঘুম ভাঙি। তাদের ডাক না শুনলে আমাদের ঘুম আসেনা।

শিক্ষার্থী মো. আবু রায়হান বলেন, আমরা মাঝে মাঝে কিচির মিচির শব্দ শুনতে সোলায়মান মুন্সির বাড়ী যাই। আমাদের ওরা ডিসটার্ব করেনা,আমরাও করিনা।

প্রতিবেশী হাফেজ সাইদুল হক মুন্সি বলেন, আমাদের বাড়ীর ফলফলাদি নষ্ট করলেও বাদুড়ের ডাক ও উড়ার দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করে। আমরাও ওদের সাথে একটা ভাব জমিয়েছি।

বাড়ীর মালিক মো. ফারুক খাঁন বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্যদের মতই ওরা। ৩০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে আমাদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়া থাকে। আমরাও ক্ষতি করিনা,ওরাও কোন ক্ষতি করেনা।

সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী বায়জিদ মুন্সী  বলেন, বন্যপ্রাণীদের যথাযথ বিচরণের সুযোগ দিলে এদের বিস্তার বাড়বে। বাদুড়ের নিরাপদ আবাসস্থলগুলো ধরে রাখতে কাজ করছে তারা। পাশাপাশি প্রাণী রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়ায় চিঁ চিঁ শব্দে মুখর বাদুড়ের সাম্রাজ্যখ্যাত মুন্সি বাড়ি

আপডেট সময় : ১১:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের সোলায়মান মুন্সির বাড়িটি যেন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি বাদুড়ের চিঁ চিঁ শব্দে মুখর থাকা যায়গাটি হয়ে উঠেছে বাদুড়ের সাম্রাজ্য। হাজার হাজার বাদুড় রেইনট্রি, তেতুল গাছ আর তালগাছে ঝুলে আছে। গাছে পাতা নয়, শুধুই বাদুড় আর বাদুড়। ছুটে চলে এ দিক সেদিক। এ যেন বাড়ী নয়, যেন বাদুড়ের রাজ্য।

উঁচু গাছের ডালে ডালে বাদুড়ের ঝুলে থাকা ছিল এক সময়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। নিশাচর প্রাণী হিসেবে এদের ছিল অবাধ ছুটে চলা। রাত হলেই যে কোন ফলের প্রতি আক্রমণ ছিল এদের কাজ। এমন দৃশ্য আর তেমন চোখে পড়েনা। নির্জন গাছ পালা, খাবার আর গরমের তীব্রতা বাড়ায় এদের উপস্থিতি কমছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসত বাড়ীর পিছনে পুকুরের ধারে রয়েছে গাছ গাছালি।  সেই গাছে চোখ দিলেই দেখা যায় পা উপরে তুলে নিচে মাথা দিয়ে ঝুলে আছে বাদুড়। পা যেন গাছের সাথে হুক দিয়ে আটকে রাখা।  নিশাচর প্রাণীগুলো রাত হলে খাবারের সন্ধ্যানে বের হয়ে যায় আর ভোরের আলো উঁকি দেওয়ার সাথে সাথে চলে আসে হাজার হাজার বাদুড় নীড়ে। চিঁ চিঁ শব্দ আর প্রাণপণ ছুটে চলার দৃশ্য প্রায় দুই যুগ ধরে । এগুলোকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করেন বাড়ীর মালিক।

স্থানীয়রা আর বাড়ীর পাশে প্রতিবেশীরাও অভ্যস্থ হয়ে গেছে এমন দৃশ্য দেখে। তাদেরও ঘুম আসেনা বাদুড়ের চিঁ চিঁ শব্দ ছাড়া। একটা সময় বাদুড়কে বিরক্ত করলেও এখন বাদুড় সচরাচর চোখে না পড়ার কারনে শিক্ষার্থীসহ গ্রামের লোকজন মাঝে মাঝে বাদুড় দেখতে এ বাড়িতে ছুটে আসে।

প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমারা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি তাদের ডাকাডাকি শুনতে শুনতে। তাদের ডাকাডাকি শুনে ঘুম পড়ি আর তাদের ডাকাডাকি শুনে ঘুম ভাঙি। তাদের ডাক না শুনলে আমাদের ঘুম আসেনা।

শিক্ষার্থী মো. আবু রায়হান বলেন, আমরা মাঝে মাঝে কিচির মিচির শব্দ শুনতে সোলায়মান মুন্সির বাড়ী যাই। আমাদের ওরা ডিসটার্ব করেনা,আমরাও করিনা।

প্রতিবেশী হাফেজ সাইদুল হক মুন্সি বলেন, আমাদের বাড়ীর ফলফলাদি নষ্ট করলেও বাদুড়ের ডাক ও উড়ার দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করে। আমরাও ওদের সাথে একটা ভাব জমিয়েছি।

বাড়ীর মালিক মো. ফারুক খাঁন বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্যদের মতই ওরা। ৩০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে আমাদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়া থাকে। আমরাও ক্ষতি করিনা,ওরাও কোন ক্ষতি করেনা।

সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী বায়জিদ মুন্সী  বলেন, বন্যপ্রাণীদের যথাযথ বিচরণের সুযোগ দিলে এদের বিস্তার বাড়বে। বাদুড়ের নিরাপদ আবাসস্থলগুলো ধরে রাখতে কাজ করছে তারা। পাশাপাশি প্রাণী রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান করেন।