ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহিরুল বহিষ্কার। ধুলাসার ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতিকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কলাপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতা বহিষ্কার কুয়াকাটায় ইয়াবা সেবনে বাধা: হোটেল মালিককে পিটিয়ে পা থেঁতলে দিল সন্ত্রাসীরা মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন সিলেট হাইওয়ে পুলিশ সুপার। কলাপাড়ায় চাঁদা বাজির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়কসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার  কলাপাড়ায় ভূমিদস্যুরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দখল নেয়া ১৫ একর জমি পুনরুদ্ধার করেছে উপজেলা বিএনপি কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে মারধরের অভিযোগ কলাপাড়ায় আওয়ামীলীগের সমর্থকের বিরুদ্ধে বিএনপির সমর্থককে মারধর করার অভিযোগ কলাপাড়ায় গভীর রাতে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান, ৪ জনের কারাদণ্ড

চিঠিতে আ.লীগ নেতার নাম লিখে ঠিকাদারের ‘আত্মহত্যা’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় নুরুজ্জামান বুলবুল (৪৮) নামে এক ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক সুইসাইড নোট, যার একটিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

সোমবার (১২ মে) বিকেল ৪টার দিকে কৈজুরি গ্রামের পৈতৃক বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর লাশ পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা একটি চিরকুটে লেখা ছিল—‘বিল্লাল ভাই আমাকে আর বাঁচতে দিলেন না।’ ধারণা করা হচ্ছে চিঠির বিল্লাল ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক। একসময় আলোচিত মানি লন্ডারিং মামলায় তিনি কারাভোগও করেন। একই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, যার মুরগির খামারে বিল্লাল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

জানা যায়, নিহত নুরুজ্জামান বুলবুল ও বিল্লাল হোসেনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা যৌথভাবে মুন্সিবাজার বাইপাস মোড়ে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। তবে বিগত বছরগুলোতে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক কারণে দূরত্ব তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

নিহতের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বুলবুলের স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেঝ মেয়ের প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে হয় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের সঙ্গে। এই ঘটনা পরিবারে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়। পরে বুলবুল পারিবারিক কলহ নিরসনে কিছু জমি মেয়েদের নামে লিখে দেন।

অন্য একটি চিরকুটে তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্তে লেখেন, ‘আল্লাহ পাক যদি আমার মৃত্যু দেয় তাহলে আমার মেয়েরা যেন আমার মরামুখ না দেখে আর কবর যেন আমার মায়ের কবরের পাশে হয়, এ বাড়িতে নয়।’

ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চিঠিতে আ.লীগ নেতার নাম লিখে ঠিকাদারের ‘আত্মহত্যা’

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় নুরুজ্জামান বুলবুল (৪৮) নামে এক ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক সুইসাইড নোট, যার একটিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

সোমবার (১২ মে) বিকেল ৪টার দিকে কৈজুরি গ্রামের পৈতৃক বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর লাশ পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা একটি চিরকুটে লেখা ছিল—‘বিল্লাল ভাই আমাকে আর বাঁচতে দিলেন না।’ ধারণা করা হচ্ছে চিঠির বিল্লাল ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক। একসময় আলোচিত মানি লন্ডারিং মামলায় তিনি কারাভোগও করেন। একই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, যার মুরগির খামারে বিল্লাল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

জানা যায়, নিহত নুরুজ্জামান বুলবুল ও বিল্লাল হোসেনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা যৌথভাবে মুন্সিবাজার বাইপাস মোড়ে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। তবে বিগত বছরগুলোতে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক কারণে দূরত্ব তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

নিহতের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বুলবুলের স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেঝ মেয়ের প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে হয় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের সঙ্গে। এই ঘটনা পরিবারে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়। পরে বুলবুল পারিবারিক কলহ নিরসনে কিছু জমি মেয়েদের নামে লিখে দেন।

অন্য একটি চিরকুটে তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্তে লেখেন, ‘আল্লাহ পাক যদি আমার মৃত্যু দেয় তাহলে আমার মেয়েরা যেন আমার মরামুখ না দেখে আর কবর যেন আমার মায়ের কবরের পাশে হয়, এ বাড়িতে নয়।’

ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।