ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল, রাসেল সম্পাদক নির্বাচিত হায়াতো ও মোকো এডিশন স্মার্টওয়াচ এবং হেডফোন আনল ওরাইমো বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৬ জেলেকে খুঁজতে নৌবাহিনীর ‘বানৌজা গোমতি’র উদ্ধার অভিযান মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষনার প্রস্তুতির খবরে উপকূলে উৎসবের আমেজ কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা স্বনির্ভর খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন এবিএম মোশাররফ হোসেন (এমপি) কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে এক জেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম ৯ দফা সহ জাতীয় বাজেটে দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়নের দাবিতে ৩০ কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন কলাপাড়ায়  বলি মহিষের হামলায় কৃষক নিহত কলাপাড়ায় জাতীয় ফল মেলা শুরু

আল-আরাফা ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার লাপাত্তা, বিক্ষোভ করেছে ভূক্তভোগীরা

বাংলাদেশ সংলাপ ডেক্স।।
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো.ফরিদ উদ্দিন, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,২৯জুন।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা লাপাত্তা হয়েছে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বেলা এগারোটায় ব্যাংক ঘেরাউ করে বিক্ষোভ করেছে ভূক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এময় তারা মানবন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

এছাড়া শুধু গ্রাহকই নয়, এই বাংকের এজেন্ট’র মুল একাউন্ট থেকেও ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ প্রতারক রিয়াদের বিরুদ্ধে। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের শাখায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেক জমানতকারী।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, টাকা গ্রহনের পর জমাকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করেন রিয়াদ। আর গ্রাহকের মোবাইলে জমার বার্তা না পৌছালে সার্ভারে সমস্যা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে তার আত্মসাতের বিষয়ে এজেন্ট ও গ্রাহকদের নজরে আসলে প্রতারণায় সিদ্ধাহস্থ ইউসুফ গাঁ ঢাকা দেয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পারভেজ বলেন, ৫ মাস আগে আমার নিজ একাউন্টে ৫ লাখ টাকা রেখেছি। প্রয়োজন হয়নি বলে তোলার দরকারও পরেনি। কিন্তু এখন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার একাউন্টও খালি।

ভুক্তভোগী শেফালী বেগম জানান, কয়েকদিন আগে টাকা উত্তোলন করতে গেলে রিয়াদ কদিন পরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলতে বলে। কিন্তু এখন একাউন্টে টাকা নেই।

এছাড়া লাইজু বেগমের ৫ লাখ, নাসরিন ৫ লাখ,
নাসরিন বেগম ২ লাখ ৭১ হাজার, মোকছেদ ৫ লাখ, প্রবাসী হাসান ৪ লাখ ৩০ হাজার, প্রবাসী কবির ৪ লাখ, সিদ্দিক মাঝি ৩ লাখ, রহিম ২লাখ১০হাজার, জাহাঙ্গীর সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের টাকার হদিস মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ঠিক কত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ক্যাশিয়ার রিয়াদ তা এখনও সঠিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় অনেক মানুষের দাবী মাদকাসক্ত রিয়াদুল তালুকদার অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। এর পরেও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাখায় তাকে দায়িত্বে কেন রাখা হয়েছে তা এখন সবারই প্রশ্ন।

আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী শরীফ বলেন , আমার মূল এজেন্ট থাকা দশ লাখ টাকা হদিস পাচ্ছিনা। আমাদের এই শাখায় প্রায় দুই হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে কতজন ভুক্তভোগী গ্রাহক তাদের তালিকা করা হচ্ছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভূক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন এর আগে রিয়াদ কারেন্ট বিল পরিশোধ না করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে। বিষয়টি ধরা পড়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তার বাবা মা গ্রান্টার হয়ে মুচলেকা পত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।

অভিযুক্ত রিয়াদের পিতা ইসমাইল তালুকদার বলেন, কয়েকদিন আগে থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পাওয়া গেলে কার কাছ থেকে কতজন গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে তা জেনে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য আপনাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। সন্তোজ জনক সমাধান করে দেবে।

এবিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় আমরা থানা পুলিশ এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আল-আরাফা ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার লাপাত্তা, বিক্ষোভ করেছে ভূক্তভোগীরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মো.ফরিদ উদ্দিন, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,২৯জুন।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা লাপাত্তা হয়েছে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বেলা এগারোটায় ব্যাংক ঘেরাউ করে বিক্ষোভ করেছে ভূক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এময় তারা মানবন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

এছাড়া শুধু গ্রাহকই নয়, এই বাংকের এজেন্ট’র মুল একাউন্ট থেকেও ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ প্রতারক রিয়াদের বিরুদ্ধে। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের শাখায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেক জমানতকারী।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, টাকা গ্রহনের পর জমাকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করেন রিয়াদ। আর গ্রাহকের মোবাইলে জমার বার্তা না পৌছালে সার্ভারে সমস্যা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে তার আত্মসাতের বিষয়ে এজেন্ট ও গ্রাহকদের নজরে আসলে প্রতারণায় সিদ্ধাহস্থ ইউসুফ গাঁ ঢাকা দেয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পারভেজ বলেন, ৫ মাস আগে আমার নিজ একাউন্টে ৫ লাখ টাকা রেখেছি। প্রয়োজন হয়নি বলে তোলার দরকারও পরেনি। কিন্তু এখন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার একাউন্টও খালি।

ভুক্তভোগী শেফালী বেগম জানান, কয়েকদিন আগে টাকা উত্তোলন করতে গেলে রিয়াদ কদিন পরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলতে বলে। কিন্তু এখন একাউন্টে টাকা নেই।

এছাড়া লাইজু বেগমের ৫ লাখ, নাসরিন ৫ লাখ,
নাসরিন বেগম ২ লাখ ৭১ হাজার, মোকছেদ ৫ লাখ, প্রবাসী হাসান ৪ লাখ ৩০ হাজার, প্রবাসী কবির ৪ লাখ, সিদ্দিক মাঝি ৩ লাখ, রহিম ২লাখ১০হাজার, জাহাঙ্গীর সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের টাকার হদিস মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ঠিক কত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ক্যাশিয়ার রিয়াদ তা এখনও সঠিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় অনেক মানুষের দাবী মাদকাসক্ত রিয়াদুল তালুকদার অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। এর পরেও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাখায় তাকে দায়িত্বে কেন রাখা হয়েছে তা এখন সবারই প্রশ্ন।

আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী শরীফ বলেন , আমার মূল এজেন্ট থাকা দশ লাখ টাকা হদিস পাচ্ছিনা। আমাদের এই শাখায় প্রায় দুই হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে কতজন ভুক্তভোগী গ্রাহক তাদের তালিকা করা হচ্ছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভূক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন এর আগে রিয়াদ কারেন্ট বিল পরিশোধ না করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে। বিষয়টি ধরা পড়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তার বাবা মা গ্রান্টার হয়ে মুচলেকা পত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।

অভিযুক্ত রিয়াদের পিতা ইসমাইল তালুকদার বলেন, কয়েকদিন আগে থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পাওয়া গেলে কার কাছ থেকে কতজন গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে তা জেনে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য আপনাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। সন্তোজ জনক সমাধান করে দেবে।

এবিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় আমরা থানা পুলিশ এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।