কলাপাড়ায় ভূমিদস্যুরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দখল নেয়া ১৫ একর জমি পুনরুদ্ধার করেছে উপজেলা বিএনপি
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
কলাপাড়ায় রাতের আঁধারে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জমি দখল পুনরুদ্ধার জন্য ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি।
কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নির্মল নন্দীর কয়েক যুগ ধরে মালিকানাধীন থাকা রজপাড়া মৌজার, জে এল ৯, বিএস ৪৯৬ খতিয়ানের ১৫ একর জমি ভূমিদস্যুর একটি গ্রুপ দখলে নিয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে সার্জেন্ট অব: ফজলুল হক গং নাম লিখে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
শনিবার বেলা ১১ টার সময় কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশারফ হোসেনের নির্দেশে দখলকৃত জমির সাইনবোর্ড অপসারণ করেন।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার জানান, কলাপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের বিষয়টি জানতে পেরে মাননীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশারফ হোসেনের নির্দেশে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাফিজুর রহমান চুন্নু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দখলকৃত ভূমির সাইনবোর্ড অপরসারণ করে এবং পরবর্তীতে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রকৃত ভূমি মালিকদের ভূমির দখল বুঝিয়ে দেয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ‘ নির্মল নন্দীর শ্যালকের কাছ থেকে ওরা ৩. ৬০ একর জমি কিনে ১৫ একর জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড দেয়। এবং জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে। জমি দখলের গর্হিত এ কাজটি আমাদের নজরে আশায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা দখলকৃত সাইনবোর্ড তুলে ফেলেছি। এবং উপজেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাদেরকে জমি ভরাট করে দিতে বলেছি। বিএনপি কখনও অন্যায় কাজকে প্রশ্রয় দেয় না বলে বলে মন্তব্য করেন তিঁনি।’
ভুক্তভোগী নির্মল নন্দী বলেন, ‘ রুহুল, রাসেল সহ ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ তিন চারদিন আগে আমার জমি দখলে নিয়ে শ্রেণী পরিবর্তন করে। এরপর বিএনপি’র পক্ষ থেকে আজ জমি থেকে সাইনবোর্ড তুলে নেয়া হয়। বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন শিকদার এ বিষয়ে আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। তিনি দখলকারীদের জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে মাটি কাটার স্থানে ভরাট করেও দিতে বলেছেন।’
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করা হলে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ ফজলুল হকের ম্যানেজার ওমর ফারুক জানান, উক্ত জমি তারা মূল মালিকের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে মালিকানা অর্জন করেছেন তাই এই জমির মালিকানা তাদের বলে দাবি করেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দদের এমন উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।









