মালামাল বোঝাই ৭ টি ট্রাক আটক করলো পায়রাবন্দর নিরাপত্তা বিভাগ।
- আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১২ টি ট্রলি কেটে টুকরো করে নেওয়ার সময় ৭ টি ট্রাক সহ কোটি টাকার মাল আটক করেছে পায়রাবন্দর নিরাপত্তা বিভাগ। শনিবার গভীররাতে উপজেলার লালুয়া হাসনাপাড়া আবাসন সংলগ্ন সংযোগ সড়কে ট্রাকগুলো আটক করা হয়। এনিয়ে গোটা এলাকাজুড়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা বন্দর সূত্র বলছে, বৈধ কাগজ এবং অনুমতি ছাড়া এসব মালামাল পরিবহন কিংবা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
হাসনাপাড়া আবাসনের বাসিন্দারা জানান, পায়রাবন্দরের অধিনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল ই-ইন্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট পট পরিবর্তনের পর কোম্পানিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপরে এই কোম্পানি আর কাজ করেনি। তবে এই আবাসনে কোম্পানির অন্তত ১২ টি ট্রলি গাড়ি সহ অসংখ্য মালামাল পড়ে ছিল। যার দাম প্রায় কয়েক কোটি টাকা।

স্থানীয়দের দাবী গত ১২ আগষ্ট হঠাৎই কিছু মানুষ গ্যাস কাটার মেশিন দিয়ে ট্রলিগুলো কেটে জমায়েত করতে শুরু করে। এরপর বৃহস্পতিবার একযোগে ৭ টি ট্রাকে ট্রলির কাটা লোহার অংশ এবং ইঞ্জিন অক্ষত রেখে লোড করা হয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে ট্রাকবোঝাই করে নেওয়ার সময় পায়রাবন্দর নিরাপত্তা বিভাগের একটি দল এনএসআই সদস্য সহ ট্রাকগুলো আটক করে। পরে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এরপর থেকে নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ট্রাকগুলো জব্দ রাখা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে কথা হলে ট্রান্সপোর্ট পরিচালনাকারী ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন জানান, সুমন এবং সাব্বিরের মাধ্যমে তিনি ৭ টি ট্রাক ম্যানেজ করে আবাসন এলাকায় এসেছেন।
স্থানীয় আনোয়ার কোম্পানির কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করেছে। এই মালামাল বৈধ না অবৈধ তা তিনি জানেন না। তবে ট্রান্সপোর্টে যোগাযোগকারী সুমন ও সাব্বিরের সঙ্গে অনেক যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায় নি।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির পায়রা বন্দর কো-অর্ডিনেটর মো. হাসিব জানান, দীর্ঘদিন কোম্পানির এই ট্রলিগুলো প্রায় পরিত্যক্ত ছিল। সেগুলো কোম্পানি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা এখন কাগজ সম্পাদনের চেষ্টা করছি। এই প্রক্রিয়া শেষে মাল নিতে পারব। কিন্তু কোন উপায়ে বিক্রি করা হয়েছে তা জানতে চাইলে কিছু বলেন নি তিনি।
এবিষয়ে পায়রা বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের উপ- পরিচালক লে. কমান্ডার মো. ইরফানুল আল রিফাত বলেন, পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাল বোঝাই ৭টি ট্রাক গতরাতে আটক করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, মালামাল রাতে কেন নেওয়া হচ্ছিল এমন সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ডগ ইয়ার্ডের কোন কাগজ দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা যদি কাগজ সম্পাদন করে দেখাতে পারে তাহলেই ওইসব মালামাল নিতে পারবে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ অবহিত করার পর মালামাল সহ ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়ও অবগত আছেন। সংশ্লিষ্টরা যদি তাদের ডকুমেন্টস দিয়ে বন্দর থেকে তাদের পণ্য নেওয়ার অনুমতি পায় তাহলে তারা নিতে পারবে। আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করছি।














