মলদোভায় বাংলাদেশি শ্রমবাজারে নতুন দিগন্ত: রাষ্ট্রদূতের সরেজমিন পরিদর্শনে উজ্জ্বল সম্ভাবনার বার্তা
- আপডেট সময় : ০১:০৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
মলদোভা প্রতিনিধি:বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে মলদোভার বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মপরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়নের লক্ষ্যে সরকারি সফরে মলদোভা পরিদর্শন করেছেন রোমানিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হে. শাহনাজ গাজী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম কল্যাণ) এ. এইচ. ইরফান উদ্দিন আহমেদ এবং দূতাবাসের প্রশাসনিক প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত শেখ কৌশিক ইকবাল।প্রতিনিধি দল মলদোভায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মস্থল, আবাসন, নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং সার্বিক কল্যাণ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের অভিজ্ঞতা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত হন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন।
রাষ্ট্রদূত হে. শাহনাজ গাজী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বৈধ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বিদেশে কর্মরত প্রতিটি বাংলাদেশির অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা। তিনি কর্মীদের আইন মেনে চলা, সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান এবং অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।প্রথম সচিব (শ্রম কল্যাণ) এ. এইচ. ইরফান উদ্দিন আহমেদ কর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন এবং তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা মনোযোগসহকারে শোনেন।
তিনি আবাসন, খাদ্য, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বৈধ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তি মলদোভায় নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা, পরিশ্রম ও সুনামের কারণে ভবিষ্যতে ইউরোপের এই উদীয়মান শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়াম গ্লোবাল এইচআর-এর চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ শাহজাহান। তিনি বলেন,“বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিরাপদ, বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি আমাদের অঙ্গীকার। সরকারের বৈধ অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ দূতাবাস, বিদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এক লক্ষ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে আমরা আশাবাদী।”তিনি আরও বলেন,“এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রবাসী কল্যাণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি যৌথ জাতীয় প্রয়াস। আমরা বিশ্বাস করি—সমন্বয়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউরোপের শ্রমবাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে।”এ সময় স্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, মালয়েশিয়া প্রবাসী এস. এম. রহমান পারভেজ, ইতালি প্রবাসী মিলন মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রিন্স মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রদূতের এই সফর বাংলাদেশ ও মলদোভার মধ্যে বৈধ, নিরাপদ ও টেকসই জনশক্তি সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বানবাংলাদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রবাসীদের অবদান অনন্য।
তাই আমাদের সকলের দায়িত্ব বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাংলাদেশের সুনাম, সততা ও পেশাদারিত্বকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করা।আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি বাংলাদেশি কর্মী নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউরোপসহ বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন শ্রমবাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।বাংলাদেশ এগিয়ে যাক দক্ষ জনশক্তির শক্তিতে।প্রবাসী বাংলাদেশিরা হোক দেশের গর্ব, অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সম্মানিত প্রতিনিধি।















