ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাঙ্গাবালীতে খাল থেকে বালু উত্তোলন করে স্কুল মাঠ ভরাটের অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যান’র বিরুদ্ধে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফি, তার পিতা ও বড় ভাইয়ের নামে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা কলাপাড়ায় তৃণমূলের ১২ নারী পেল পুকুরে মৎস্য চাষের  উপকরণ  জমি দখলের বিষয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি কলাপাড়ায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার-১ ঠিকাদারির নামে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রণব শাখারি গোপাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কলাপাড়ায় “প্রাণ সংহতি” সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পায়রা বন্দরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল, রাসেল সম্পাদক নির্বাচিত

রাঙ্গাবালীতে খাল থেকে বালু উত্তোলন করে স্কুল মাঠ ভরাটের অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যান’র বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল পাশার বিরুদ্ধে।

 অভিযোগ রয়েছে, হরিদ্রাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে দফায় দফায় বালু তোলা হয়েছে। এতে খালের পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি দোকান খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১০টি দোকান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার  অফিস (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের  হরিদ্রাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪২০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল পাশা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য বাইরে থেকে বালু সংগ্রহ না করে বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি খাল থেকেই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়রা একাধিকবার আপত্তি জানালেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এতে খালের পাড় দুর্বল হয়ে গত ১৪ জুলাই রাতে দুটি দোকান ধসে খালের মধ্যে পড়ে যায়।

বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার পরিচালনাকারী এক ব্যক্তি বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল পাশার নির্দেশেই সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলন করেছেন তিনি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দোকান ধসের প্রকৃত কারণ গোপন রাখতে দুর্যোগের  কারণে দোকানঘর ভেঙে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই সময়ে রাঙ্গাবালীতে কোনো বন্যা হয়নি। খাল থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণেই খালের পাড় ভেঙে দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন ছিল কি না। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি নীতিমালা মানা হয়েছে কি না এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা বিধিবিধান অনুসরণ করেছেন কি না-তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল পাশা বলেন, সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনা অনেক আগের। আর বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থান থেকে নয়, কিছুটা দূরের অংশ থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত আছেন উল্লেখ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাঙ্গাবালীতে খাল থেকে বালু উত্তোলন করে স্কুল মাঠ ভরাটের অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যান’র বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল পাশার বিরুদ্ধে।

 অভিযোগ রয়েছে, হরিদ্রাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে দফায় দফায় বালু তোলা হয়েছে। এতে খালের পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি দোকান খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১০টি দোকান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার  অফিস (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের  হরিদ্রাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪২০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল পাশা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য বাইরে থেকে বালু সংগ্রহ না করে বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি খাল থেকেই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়রা একাধিকবার আপত্তি জানালেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এতে খালের পাড় দুর্বল হয়ে গত ১৪ জুলাই রাতে দুটি দোকান ধসে খালের মধ্যে পড়ে যায়।

বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার পরিচালনাকারী এক ব্যক্তি বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল পাশার নির্দেশেই সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলন করেছেন তিনি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দোকান ধসের প্রকৃত কারণ গোপন রাখতে দুর্যোগের  কারণে দোকানঘর ভেঙে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই সময়ে রাঙ্গাবালীতে কোনো বন্যা হয়নি। খাল থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণেই খালের পাড় ভেঙে দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন ছিল কি না। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি নীতিমালা মানা হয়েছে কি না এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা বিধিবিধান অনুসরণ করেছেন কি না-তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল পাশা বলেন, সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনা অনেক আগের। আর বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থান থেকে নয়, কিছুটা দূরের অংশ থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত আছেন উল্লেখ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’