ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জমি দখলের বিষয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি কলাপাড়ায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার-১ ঠিকাদারির নামে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রণব শাখারি গোপাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কলাপাড়ায় “প্রাণ সংহতি” সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পায়রা বন্দরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল, রাসেল সম্পাদক নির্বাচিত হায়াতো ও মোকো এডিশন স্মার্টওয়াচ এবং হেডফোন আনল ওরাইমো বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৬ জেলেকে খুঁজতে নৌবাহিনীর ‘বানৌজা গোমতি’র উদ্ধার অভিযান মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষনার প্রস্তুতির খবরে উপকূলে উৎসবের আমেজ

সাঘাটার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষো*ভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে ওঠায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ছাড়াই এসব কারখানা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে বাতাস দূষিত করছে। ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানির উৎস দূষণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা-পোড়া এবং চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়,পাছগরগড়ীয়া গ্রামের এমদাদুল হক, বাবলু মিয়া,
ফিরোজ কবির (রাশেদ মিয়া),জুয়েল মিয়া,সুমন মিয়া ওরফে ফেলু এবং চাকুলী গ্রামের রায়হান ও সোহাগ নামের ব্যক্তিরা কারখানা গুলি চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, “আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। কয়লার ধোঁয়ায় জমির ধান ও শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবার চালাবো কিভাবে?”

অন্য এক বাসিন্দা রাশেদা খাতুন জানান, “দিনরাত ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাচ্চারা কাশি-শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অথচ কারখানার মালিকরা কোনো নিয়ম মানে না।”

স্থানীয় যুবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই কয়লা কারখানা পুরো এলাকায় বিষ ছড়াচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, নইলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি—অবৈধ কয়লা কারখানা দ্রুত বন্ধ করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাঘাটার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষো*ভ

আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে ওঠায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ছাড়াই এসব কারখানা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে বাতাস দূষিত করছে। ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানির উৎস দূষণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা-পোড়া এবং চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়,পাছগরগড়ীয়া গ্রামের এমদাদুল হক, বাবলু মিয়া,
ফিরোজ কবির (রাশেদ মিয়া),জুয়েল মিয়া,সুমন মিয়া ওরফে ফেলু এবং চাকুলী গ্রামের রায়হান ও সোহাগ নামের ব্যক্তিরা কারখানা গুলি চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, “আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। কয়লার ধোঁয়ায় জমির ধান ও শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবার চালাবো কিভাবে?”

অন্য এক বাসিন্দা রাশেদা খাতুন জানান, “দিনরাত ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাচ্চারা কাশি-শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অথচ কারখানার মালিকরা কোনো নিয়ম মানে না।”

স্থানীয় যুবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই কয়লা কারখানা পুরো এলাকায় বিষ ছড়াচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, নইলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি—অবৈধ কয়লা কারখানা দ্রুত বন্ধ করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।