ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

লালমনিরহাটের টিটিসিকে অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন সাবেক অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)তে অধ্যক্ষ থাকাকালে দেলোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানে চালু করেন অনিয়ম আর দূর্নীতির এক নতুন যুগ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ হাতিয়ে কৌশলে গাজীপুরে বদলি হয়ে সরে যান দায়িত্ব থেকে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

তাঁর অপকর্ম ফাঁস হয় দায়িত্ব ছাড়ার পর। ধরা পড়ে নানা অনিয়মের চিত্র। দেলোয়ারের একার পক্ষে এসব সম্ভব না হলেও তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, কয়েকজন শিক্ষকসহ ২জন নিম্নপদস্থ কর্মচারী, যারা প্রতিষ্ঠানের সব অনিয়মে তার ডান-বাম হাত হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকায় থাকলেও তার সাক্ষর ঢাকায় গিয়ে করে নিয়ে আসতো কয়েক শিক্ষক, বিনিময়ে ভোগ করতো প্রতিষ্ঠানের অঘোষিত সুযোগ ও সুবিধা। অভিযোগ আছে দেলোয়ার হোসেন তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে বানিয়েছেন গার্মেন্টস ট্রেডের ইনস্ট্রাক্টর।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ আইনুল হক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে জেলা হিসাব অফিসে স্টাফদের আইডি খোলেননি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ড্রয়ারের চাবিও তিনি বুঝিয়ে দেননি, যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও ব্যাংক বুক, ক্যাশবুক, বাজেট কন্ট্রোল, রেজিস্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে তার স্বাক্ষর নেই। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে ৭লক্ষ ৪৮হাজার ৫শত ৮০টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে। রয়েছে প্রকল্প ভুক্ত কর্মীদের বেতন না দেওয়ার অভিযোগও।

অধ্যক্ষ আইনুল হক আরও জানান, দেলোয়ার হোসেন ৯ মার্চ ২০২৫ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত অফিস করেননি, অথচ তিনি এখনও সরকারি বেতন ভোগ করছেন। বিভিন্ন ট্রেডের মালামালের হিসাবেও রয়েছে বিপুল ঘাটতি। অতিথি শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম (আইডি: ৭৩১৮৭৭৯৮৩৭) অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বকেয়া রেখে বারবার হয়রানি করেছেন দেলোয়ার হোসেন। মানসিক নির্যাতনও করেছেন দীর্ঘদিন।

এ নিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লালমনিরহাটের সহ-সভাপতি সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ দেশের জন্য লজ্জার। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দূনীতি করা কোন ব্যক্তি যেন ছাড় না পায় সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে।

বর্তমান অধ্যক্ষ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লালমনিরহাটের টিটিসিকে অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন সাবেক অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন।

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)তে অধ্যক্ষ থাকাকালে দেলোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানে চালু করেন অনিয়ম আর দূর্নীতির এক নতুন যুগ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ হাতিয়ে কৌশলে গাজীপুরে বদলি হয়ে সরে যান দায়িত্ব থেকে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

তাঁর অপকর্ম ফাঁস হয় দায়িত্ব ছাড়ার পর। ধরা পড়ে নানা অনিয়মের চিত্র। দেলোয়ারের একার পক্ষে এসব সম্ভব না হলেও তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, কয়েকজন শিক্ষকসহ ২জন নিম্নপদস্থ কর্মচারী, যারা প্রতিষ্ঠানের সব অনিয়মে তার ডান-বাম হাত হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকায় থাকলেও তার সাক্ষর ঢাকায় গিয়ে করে নিয়ে আসতো কয়েক শিক্ষক, বিনিময়ে ভোগ করতো প্রতিষ্ঠানের অঘোষিত সুযোগ ও সুবিধা। অভিযোগ আছে দেলোয়ার হোসেন তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে বানিয়েছেন গার্মেন্টস ট্রেডের ইনস্ট্রাক্টর।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ আইনুল হক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে জেলা হিসাব অফিসে স্টাফদের আইডি খোলেননি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ড্রয়ারের চাবিও তিনি বুঝিয়ে দেননি, যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও ব্যাংক বুক, ক্যাশবুক, বাজেট কন্ট্রোল, রেজিস্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে তার স্বাক্ষর নেই। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে ৭লক্ষ ৪৮হাজার ৫শত ৮০টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে। রয়েছে প্রকল্প ভুক্ত কর্মীদের বেতন না দেওয়ার অভিযোগও।

অধ্যক্ষ আইনুল হক আরও জানান, দেলোয়ার হোসেন ৯ মার্চ ২০২৫ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত অফিস করেননি, অথচ তিনি এখনও সরকারি বেতন ভোগ করছেন। বিভিন্ন ট্রেডের মালামালের হিসাবেও রয়েছে বিপুল ঘাটতি। অতিথি শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম (আইডি: ৭৩১৮৭৭৯৮৩৭) অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বকেয়া রেখে বারবার হয়রানি করেছেন দেলোয়ার হোসেন। মানসিক নির্যাতনও করেছেন দীর্ঘদিন।

এ নিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লালমনিরহাটের সহ-সভাপতি সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ দেশের জন্য লজ্জার। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দূনীতি করা কোন ব্যক্তি যেন ছাড় না পায় সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে।

বর্তমান অধ্যক্ষ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন।