ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা: নারীর দুই হাত ভাঙার অভিযোগ। কলাপাড়ায় বিয়ে করতে গিয়েও দিতে হল চাঁদা, অভিযোগ যুবদল নেতা দেলোয়ার মৃধার বিরুদ্ধে। কলাপাড়ায তরমুজ খেত নষ্ট করায় ছাগল ধরে পুলিশে দিল কৃষক  হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেফতার কলাপাড়ায় উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন জাকির মৃধা কলাপাড়ায় আবাসিক এলাকা থেকে দুই পতিতা ও খদ্দের সহ দেহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দুই সন্তানের জননী প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ কলাপাড়ায় মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সুমন, রাসেল ও সজিবের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ঈদে কলাপাড়ায় ৮৬৩টি অভাবী পরিবারকে ভিজিএফ চাল উপহার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহিরুল বহিষ্কার।

গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভাঙনে বিলীন ১৫টি গ্রাম, বাস্তুহারা প্রায় ২০ হাজার মানুষ

অর্পিতা চ্যাটার্জী, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে ১৫টি গ্রাম। সেই সাথে বাস্তুহারা প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এসব নদীভাঙনে জেলা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের ১৩৪টি চর এবং গ্রামের প্রায় ৩০হাজার হেক্টর আবাদি জমিও নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানান্তরিত হয়েছে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো। প্রতিনিয়ত স্থায়ী চরগুলো নদীভাঙনের কবলে পড়লেও প্রতিরোধ পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন চরের হাজারো পরিবারের মানুষ।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কালুরপাড়া, কুমারপাড়া, পাতিলবাড়ি, ঘুয়াবাড়ি গ্রামের অস্তিত্ব আর নেই। এই চরের গ্রামগুলোতে শতশত পরিবারের বসবাস থাকলেও এখন জনবসতিহীন হয়ে বালুর চর আর নদীতে পরিনত হয়েছে। ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল, চকপাড়া, নইকারচরেও ঠিকানাও এখন যমুনাতে।

হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ির নাম কাগজে কলমে থাকলেও এই গ্রামের মানুষজনের বসতির কোন চিহ্ন এখানে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
কালুরপাড়া গ্রামও নদীগর্ভে যাওয়ার অন্ততপক্ষে ১৫শ’ পরিবারের নিজ গ্রামের ঠিকানা আর নেই।

ফুলছড়ি উপজেলার গাবগাছি, টেংরাকান্দি, পিগুলিয়া, পারুল, ফজলুপুর, খাটিয়ামারী, নিশ্চিতপুর গ্রামের পুরোপুরি এখন নদীর মধ্যে। এরেন্ডারবাড়ি ইউনিয়নে মৌলভির চরের অস্তিত্বও এখন শেষ পর্যায়ে।

সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের খারজানি, কুন্দেরপাড়া, গুপ্তমনি, মোল্লারচ, ছেরিমারার চরের মানুষজন নিজ গ্রাম থেকে বিভিন্ন চর ও বাঁধের উপর অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, বেলকা, কাপাসিয়া ও চন্ডিপুরের ৬টি গ্রাম নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ২হাজার পরিবারের বসতভিটা এখন নদীগর্ভে।

সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, চরের গ্রামগুলো রক্ষায় সরকারের কোন পদদেক্ষ না থাকায় প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

অপরদিকে, চরাঞ্চলগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন পরিকল্পনা নেই বলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভাঙনে বিলীন ১৫টি গ্রাম, বাস্তুহারা প্রায় ২০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০১:২৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

গাইবান্ধার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে ১৫টি গ্রাম। সেই সাথে বাস্তুহারা প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এসব নদীভাঙনে জেলা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের ১৩৪টি চর এবং গ্রামের প্রায় ৩০হাজার হেক্টর আবাদি জমিও নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানান্তরিত হয়েছে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো। প্রতিনিয়ত স্থায়ী চরগুলো নদীভাঙনের কবলে পড়লেও প্রতিরোধ পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন চরের হাজারো পরিবারের মানুষ।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কালুরপাড়া, কুমারপাড়া, পাতিলবাড়ি, ঘুয়াবাড়ি গ্রামের অস্তিত্ব আর নেই। এই চরের গ্রামগুলোতে শতশত পরিবারের বসবাস থাকলেও এখন জনবসতিহীন হয়ে বালুর চর আর নদীতে পরিনত হয়েছে। ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল, চকপাড়া, নইকারচরেও ঠিকানাও এখন যমুনাতে।

হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ির নাম কাগজে কলমে থাকলেও এই গ্রামের মানুষজনের বসতির কোন চিহ্ন এখানে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
কালুরপাড়া গ্রামও নদীগর্ভে যাওয়ার অন্ততপক্ষে ১৫শ’ পরিবারের নিজ গ্রামের ঠিকানা আর নেই।

ফুলছড়ি উপজেলার গাবগাছি, টেংরাকান্দি, পিগুলিয়া, পারুল, ফজলুপুর, খাটিয়ামারী, নিশ্চিতপুর গ্রামের পুরোপুরি এখন নদীর মধ্যে। এরেন্ডারবাড়ি ইউনিয়নে মৌলভির চরের অস্তিত্বও এখন শেষ পর্যায়ে।

সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের খারজানি, কুন্দেরপাড়া, গুপ্তমনি, মোল্লারচ, ছেরিমারার চরের মানুষজন নিজ গ্রাম থেকে বিভিন্ন চর ও বাঁধের উপর অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, বেলকা, কাপাসিয়া ও চন্ডিপুরের ৬টি গ্রাম নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ২হাজার পরিবারের বসতভিটা এখন নদীগর্ভে।

সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, চরের গ্রামগুলো রক্ষায় সরকারের কোন পদদেক্ষ না থাকায় প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

অপরদিকে, চরাঞ্চলগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন পরিকল্পনা নেই বলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা গেছে।