ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত কলাপাড়ায় আওয়ামীলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম কলাপাড়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষ, আহত-১০ রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার হত্যাকাণ্ড: আদালতে দুই আসামির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ও নেপথ্যের রহস্য গ্রাহকের মৃত্যুতে কিস্তি মওকুফ, পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিল কলাপাড়া ওয়ালটন প্লাজা। কলাপাড়ায় বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা, ১০ জন মেয়ে শিশু পেলো শিক্ষা বৃত্তি। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ: আলোচনায় আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। কলাপাড়ায় অবৈধ ভুসনা জাল বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড, জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট। সাংবাদিক মিঠু”র পিতা মরহুম সুজা উদ্দিন বিশ্বাস “র ১১ তম প্রয়ান দিবসের দোয়া মোনাজাত অনুস্ঠিত

চলমান তাপপ্রবাহে মান হারাচ্ছে ওষুধ, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সারাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানে ওষুধ সংরক্ষণে নির্দেশিত তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওষুধের গুণগত মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশজুড়ে ওষুধের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ওষুধের মোড়কে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের দাবদাহে অধিকাংশ দোকানে সেই তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

মাত্র গুটিকয়েক মডেল ফার্মেসি ছাড়া অধিকাংশ দোকানেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) নেই। কিছু দোকানে ফ্যান বা রেফ্রিজারেটর থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় ‘কোল্ড চেইন’ ব্যবস্থা। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, টিকা, অয়েন্টমেন্ট, জেল, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও ডায়াগনস্টিক কিটসহ সংবেদনশীল ওষুধগুলোর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

এ বিষয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ‘সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ না করলে ওষুধের গুণগত মান থাকে না। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন ও বায়োমলিকুলার ওষুধ উচ্চ তাপে নষ্ট হয়ে যায়। এতে রোগী সুস্থ না হয়ে উল্টো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। প্রশাসনের উচিত এই সময় ওষুধ সংরক্ষণে কড়াকড়ি নজরদারি বাড়ানো।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত ফার্মেসি ও ওষুধ দোকানের সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৫টি। এর মধ্যে মাত্র ৫২৮টি দোকানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অধিকাংশ দোকানেই নিরাপদ তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ফার্মেসিগুলোতে শীতাতপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, তদারকি জোরদার করা এবং ক্রেতাদের সচেতন করার এখনই সময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চলমান তাপপ্রবাহে মান হারাচ্ছে ওষুধ, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় : ১২:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

সারাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানে ওষুধ সংরক্ষণে নির্দেশিত তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওষুধের গুণগত মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশজুড়ে ওষুধের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ওষুধের মোড়কে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের দাবদাহে অধিকাংশ দোকানে সেই তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

মাত্র গুটিকয়েক মডেল ফার্মেসি ছাড়া অধিকাংশ দোকানেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) নেই। কিছু দোকানে ফ্যান বা রেফ্রিজারেটর থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় ‘কোল্ড চেইন’ ব্যবস্থা। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, টিকা, অয়েন্টমেন্ট, জেল, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও ডায়াগনস্টিক কিটসহ সংবেদনশীল ওষুধগুলোর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

এ বিষয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ‘সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ না করলে ওষুধের গুণগত মান থাকে না। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন ও বায়োমলিকুলার ওষুধ উচ্চ তাপে নষ্ট হয়ে যায়। এতে রোগী সুস্থ না হয়ে উল্টো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। প্রশাসনের উচিত এই সময় ওষুধ সংরক্ষণে কড়াকড়ি নজরদারি বাড়ানো।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত ফার্মেসি ও ওষুধ দোকানের সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৫টি। এর মধ্যে মাত্র ৫২৮টি দোকানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অধিকাংশ দোকানেই নিরাপদ তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ফার্মেসিগুলোতে শীতাতপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, তদারকি জোরদার করা এবং ক্রেতাদের সচেতন করার এখনই সময়।