ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

মহিপুরে প্রায় ২৮ লাখ টাকার কালভার্টে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তি চরমে

মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫ ১১২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি নতুন কালভার্ট। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে এলাকাবাসীর চলাচলে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ইউসুফপুরসহ আশপাশের গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পাশের সরু বাঁধ দিয়ে হাঁটুসমান কাদায় নেমে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও স্কুল-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি বিপাকে। বর্ষায় চলাচল আরো বেশি বিপজ্জনক। এছাড়া জোয়ারের সময় বাঁধে পানি উঠে গেলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল আজিজ সিকদার বলেন, ‘এই বয়সে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়। জোয়ারের সময় বাঁধে পানি উঠে গেলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন কাদা-পানি পেরিয়ে যেতে হয়। অনেকেই কাদায় পড়ে যায়। প্রতিদিন যেন যুদ্ধ করে বাঁচি।’

শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা কালভার্টের ওপারে। এখান থেকে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাই। কখনো কখনো ক্লাসেই যেতে পারি না।’

পথচারী আছিয়া বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলাচল করি। খুব ভয় লাগে, কখন জানি পা পিছলে পড়ে যাই। এই দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি চাই।’

এছাড়া অলি আকন, মোজাম্মেল হক, মনিরুল ইসলাম ও নুরজাহান বেগমসহ স্থানীয় আরো কয়েকজন জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটছে। জরুরি রোগী, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় সময়মতো পৌঁছানো যায় না। এতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে। তারা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানান।

স্থানীয় জামায়াত নেতা তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী বলেন, ‘সরকারি অর্থে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করে ফেলে রাখা দুঃখজনক। সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অতিসত্বর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।’

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকসেদুল আলম বলেন, ‘কালভার্টটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই এলাকাবাসী এর সুফল পাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মহিপুরে প্রায় ২৮ লাখ টাকার কালভার্টে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি নতুন কালভার্ট। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে এলাকাবাসীর চলাচলে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ইউসুফপুরসহ আশপাশের গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পাশের সরু বাঁধ দিয়ে হাঁটুসমান কাদায় নেমে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও স্কুল-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি বিপাকে। বর্ষায় চলাচল আরো বেশি বিপজ্জনক। এছাড়া জোয়ারের সময় বাঁধে পানি উঠে গেলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল আজিজ সিকদার বলেন, ‘এই বয়সে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়। জোয়ারের সময় বাঁধে পানি উঠে গেলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন কাদা-পানি পেরিয়ে যেতে হয়। অনেকেই কাদায় পড়ে যায়। প্রতিদিন যেন যুদ্ধ করে বাঁচি।’

শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা কালভার্টের ওপারে। এখান থেকে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাই। কখনো কখনো ক্লাসেই যেতে পারি না।’

পথচারী আছিয়া বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলাচল করি। খুব ভয় লাগে, কখন জানি পা পিছলে পড়ে যাই। এই দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি চাই।’

এছাড়া অলি আকন, মোজাম্মেল হক, মনিরুল ইসলাম ও নুরজাহান বেগমসহ স্থানীয় আরো কয়েকজন জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটছে। জরুরি রোগী, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় সময়মতো পৌঁছানো যায় না। এতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে। তারা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানান।

স্থানীয় জামায়াত নেতা তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী বলেন, ‘সরকারি অর্থে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করে ফেলে রাখা দুঃখজনক। সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অতিসত্বর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।’

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকসেদুল আলম বলেন, ‘কালভার্টটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই এলাকাবাসী এর সুফল পাবে।’