ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

ভরতখালীর উল্যাবাজারে নেই আর দুর্গোৎসবের উচ্ছ্বাস

অর্পিতা চ্যাটার্জী, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেই আলোর ঝলকানি, নেই ঢাকের বোল, হারিয়ে যেতে বসেছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র উল্যাবাজারে এ বছর হচ্ছে না শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিবছরের ন্যায় পূজার আমেজে ভরপুর থাকলেও এবার নিরব নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে এলাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপের চাল খোলা অবস্থায় মন্দির ঘর নিথর হয়ে আছে, নেই কোনো প্রতিমা কিংবা আয়োজন। অথচ এই জায়গাতেই দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

পূজাকে ঘিরে বসত মেলা, হতো নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষও সমান উৎসাহে অংশ নিত এই উৎসবে। ব্যবসায়ীদের জন্যও তৈরি হতো বাড়তি আয়ের সুযোগ।
এবার পূজা না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। উৎসবের আনন্দ হারিয়ে মলিন হয়ে আছে আশেপাশের মানুষের মন। ২নং ভরতখালি ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ চন্দ্র বর্মনের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, “উল্যাবাজারের দুর্গাপূজা একটি ঐতিহ্য। এ বছর পূজা না হওয়ায় মনে হচ্ছে সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।”

বিভিন্ন উত্থাপিত প্রশ্নের আলোকে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব জায়গায় মন্দিরটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ পূজা উদযাপিত হয়ে আসছিল। কিন্ত সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে জমি বিরোধ, নিরাপত্তার প্রশ্ন ও পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মতিতে পূজাটি স্থগিত করা হয়। আবার কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থকে উল্লেখ করেছেন নাম না প্রকাশের শর্তে। ভরতখালী ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে উল্যাবাজারের ঐ পূজার পরিবর্তে অন্যত্র পূজার আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও শেষ মেষ আর অন্যত্রেও পূজা হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পূজা না হওয়ার পেছনের গল্প এখন উল্যাবাজার বাসীর কাছে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু।

স্থানীয়রা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাই পূজা না হওয়ায় তাদের হৃদয়ে এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভরতখালীর উল্যাবাজারে নেই আর দুর্গোৎসবের উচ্ছ্বাস

আপডেট সময় : ১১:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেই আলোর ঝলকানি, নেই ঢাকের বোল, হারিয়ে যেতে বসেছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র উল্যাবাজারে এ বছর হচ্ছে না শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিবছরের ন্যায় পূজার আমেজে ভরপুর থাকলেও এবার নিরব নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে এলাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপের চাল খোলা অবস্থায় মন্দির ঘর নিথর হয়ে আছে, নেই কোনো প্রতিমা কিংবা আয়োজন। অথচ এই জায়গাতেই দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

পূজাকে ঘিরে বসত মেলা, হতো নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষও সমান উৎসাহে অংশ নিত এই উৎসবে। ব্যবসায়ীদের জন্যও তৈরি হতো বাড়তি আয়ের সুযোগ।
এবার পূজা না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। উৎসবের আনন্দ হারিয়ে মলিন হয়ে আছে আশেপাশের মানুষের মন। ২নং ভরতখালি ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ চন্দ্র বর্মনের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, “উল্যাবাজারের দুর্গাপূজা একটি ঐতিহ্য। এ বছর পূজা না হওয়ায় মনে হচ্ছে সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।”

বিভিন্ন উত্থাপিত প্রশ্নের আলোকে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব জায়গায় মন্দিরটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ পূজা উদযাপিত হয়ে আসছিল। কিন্ত সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে জমি বিরোধ, নিরাপত্তার প্রশ্ন ও পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মতিতে পূজাটি স্থগিত করা হয়। আবার কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থকে উল্লেখ করেছেন নাম না প্রকাশের শর্তে। ভরতখালী ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে উল্যাবাজারের ঐ পূজার পরিবর্তে অন্যত্র পূজার আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও শেষ মেষ আর অন্যত্রেও পূজা হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পূজা না হওয়ার পেছনের গল্প এখন উল্যাবাজার বাসীর কাছে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু।

স্থানীয়রা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাই পূজা না হওয়ায় তাদের হৃদয়ে এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।