ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ট্রলারসহ নিখোঁজ জেলের মরদেহ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছ ধরা ট্রলার সহ জেলের লাশ। ওই জেলের নাম ইদ্রিস (৫০)। তার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মধুখালীতে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সৈকতের ডিসি পার্ক সংলগ্ন সাগরে ট্রলার ও লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নৌ পুলিশের একটি টিম লাশটি উদ্ধার করেন। এ সময় লাশের পরনে একটি লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট ছিল। লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট দেখে লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন তার ভাতিজা সাগর। 

নিহত জেলে ইদ্রিসের ভাতিজা সাগর বলেন, আমিও ২৬ জুলাই ঐদিন এই ট্রলারেই চাচার সাথে ছিলাম। ট্রলারটি ডুবির সাথে সাথে চাচাও ওই সময় ডুবে যায়। এসময় চাচার পরনে লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট ছিলো। 

গত ২৬ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়া থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ট্রলারটি ঢেউয়ের কবলে পরে ডুবে যায়।

এর আগে ২৫ জুলাই মহিপুর থেকে ১৫ জেলে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্য রওনা দেন ট্রলারটির মাঝি আবদুর রশিদ। ট্রলারটি ডুবে গেলে চারদিন সাগরে ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১০ জন। নিখোঁজ ৫ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম নামের এক জনের লাশ গত শুক্রবার ১ আগস্ট কুয়াকাটার মীরা বাড়ি সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ট্রলারের মাঝি আবদুর রশিদ, রফিক সহ ৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাল ফেলার কিছু সময় পরই হঠাৎ এক ঝড় ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। মুহূর্তেই ট্রলারটি দুমড়ে-মুচড়ে ডুবে যায়। শুরুতেই একজন জেলে ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হন। এরপর বাঁশ ও ফ্লুটের (ভেসে থাকার সরঞ্জাম) সাহায্যে ১৪ জন ভাসতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৫ জন ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

ভেঁসে ভেসে তারা শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে সোমবার রাতে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ৯ জনকে উদ্ধার করে। মহিপুর মৎস্য বন্দর নিয়ে আসেন। পরে অপর একটি ট্রলারে আরো একজনকে উদ্ধার করে।

কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল জানান, কুয়াকাটা ডিসি পার্ক সংলগ্ন সাগরে একটি ট্রলারসহ জেলে লাশ ভাসছে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পরনে একটি লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট রয়েছে। গেঞ্জি প্যান্ট দেখে তার ভাতিজা সাগর তার চাচা ইদ্রিসের লাশের বলে দাবী করেন। লাশে সুরহাতাল শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ট্রলারসহ নিখোঁজ জেলের মরদেহ

আপডেট সময় : ০১:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছ ধরা ট্রলার সহ জেলের লাশ। ওই জেলের নাম ইদ্রিস (৫০)। তার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মধুখালীতে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সৈকতের ডিসি পার্ক সংলগ্ন সাগরে ট্রলার ও লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নৌ পুলিশের একটি টিম লাশটি উদ্ধার করেন। এ সময় লাশের পরনে একটি লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট ছিল। লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট দেখে লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন তার ভাতিজা সাগর। 

নিহত জেলে ইদ্রিসের ভাতিজা সাগর বলেন, আমিও ২৬ জুলাই ঐদিন এই ট্রলারেই চাচার সাথে ছিলাম। ট্রলারটি ডুবির সাথে সাথে চাচাও ওই সময় ডুবে যায়। এসময় চাচার পরনে লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট ছিলো। 

গত ২৬ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়া থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ট্রলারটি ঢেউয়ের কবলে পরে ডুবে যায়।

এর আগে ২৫ জুলাই মহিপুর থেকে ১৫ জেলে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্য রওনা দেন ট্রলারটির মাঝি আবদুর রশিদ। ট্রলারটি ডুবে গেলে চারদিন সাগরে ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১০ জন। নিখোঁজ ৫ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম নামের এক জনের লাশ গত শুক্রবার ১ আগস্ট কুয়াকাটার মীরা বাড়ি সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ট্রলারের মাঝি আবদুর রশিদ, রফিক সহ ৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাল ফেলার কিছু সময় পরই হঠাৎ এক ঝড় ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। মুহূর্তেই ট্রলারটি দুমড়ে-মুচড়ে ডুবে যায়। শুরুতেই একজন জেলে ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হন। এরপর বাঁশ ও ফ্লুটের (ভেসে থাকার সরঞ্জাম) সাহায্যে ১৪ জন ভাসতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৫ জন ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

ভেঁসে ভেসে তারা শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে সোমবার রাতে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ৯ জনকে উদ্ধার করে। মহিপুর মৎস্য বন্দর নিয়ে আসেন। পরে অপর একটি ট্রলারে আরো একজনকে উদ্ধার করে।

কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল জানান, কুয়াকাটা ডিসি পার্ক সংলগ্ন সাগরে একটি ট্রলারসহ জেলে লাশ ভাসছে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পরনে একটি লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট রয়েছে। গেঞ্জি প্যান্ট দেখে তার ভাতিজা সাগর তার চাচা ইদ্রিসের লাশের বলে দাবী করেন। লাশে সুরহাতাল শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।