ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইফোন কিনতে বিক্রি করা সেই শিশুকে উদ্ধার, দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তর কলাপাড়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত কলাপাড়ায় আওয়ামীলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম কলাপাড়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষ, আহত-১০ রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার হত্যাকাণ্ড: আদালতে দুই আসামির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ও নেপথ্যের রহস্য গ্রাহকের মৃত্যুতে কিস্তি মওকুফ, পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিল কলাপাড়া ওয়ালটন প্লাজা। কলাপাড়ায় বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা, ১০ জন মেয়ে শিশু পেলো শিক্ষা বৃত্তি। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ: আলোচনায় আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। কলাপাড়ায় অবৈধ ভুসনা জাল বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড, জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট।

গোপালগঞ্জে সন্ধ্যায় আসে মাইক্রোবাস, নামে যুবতীরা — কী হচ্ছে শাপলা গেস্ট হাউসে।

শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ‘শাপলা গেস্টহাউস’ ঘিরে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলটিতে নিয়মিতভাবে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বিকালের দিকে এক যুবক ও এক তরুণীকে অনৈতিক অবস্থায় হোটেল কক্ষের ভেতর থেকে আটক করে এলাকাবাসী। এরপর তারা কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখে এবং বিষয়টি স্থানীয় মসজিদ কমিটির মুরব্বিদের অবহিত করে। মুরব্বিরা জানান, বহুদিন ধরে হোটেলটিকে ঘিরে সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগ শুনলেও এবার তারা হাতে-নাতে প্রমাণ পেয়েছেন।

ঘোনাপাড়ার ‘বীর প্রতীক’ লুৎফর রহমান মার্কেটে অবস্থিত এই হোটেলটির মালিক কথিত নাম সালাউদ্দিন। তাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ 0 1753-517822 করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমি বিষয়টি নিয়ে সত্যিই লজ্জিত। আপাতত হোটেলটি বন্ধ রেখেছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমি সজাগ থাকব।”

স্থানীয় একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা জানান, “প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে খুলনা থেকে একটি কালো মাইক্রোবাস হোটেলের সামনে আসে। গাড়ি থেকে নামতে থাকে রঙিন পোশাকে, স্কুলব্যাগ হাতে মেয়েরা। দেখে মনে হয় কোনো স্কুল বা কোচিং সেন্টার। অথচ তারা এখানে আসে দেহ বিক্রির জন্য। সন্ধ্যার দিকে আবার সেই গাড়ি এসে তাদের নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। এই দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

এছাড়াও গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় গোবরা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মুরাদ বিশ্বাস স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে একত্র হয়ে প্রতিবাদ করেন। তিনি জানান, “আমাদের এলাকায় দেহ ব্যবসা, মাদক কিংবা চাঁদাবাজি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হোটেলটির কার্যক্রম বন্ধ ও অনৈতিক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গোপালগঞ্জে সন্ধ্যায় আসে মাইক্রোবাস, নামে যুবতীরা — কী হচ্ছে শাপলা গেস্ট হাউসে।

আপডেট সময় : ০৬:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ‘শাপলা গেস্টহাউস’ ঘিরে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলটিতে নিয়মিতভাবে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বিকালের দিকে এক যুবক ও এক তরুণীকে অনৈতিক অবস্থায় হোটেল কক্ষের ভেতর থেকে আটক করে এলাকাবাসী। এরপর তারা কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখে এবং বিষয়টি স্থানীয় মসজিদ কমিটির মুরব্বিদের অবহিত করে। মুরব্বিরা জানান, বহুদিন ধরে হোটেলটিকে ঘিরে সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগ শুনলেও এবার তারা হাতে-নাতে প্রমাণ পেয়েছেন।

ঘোনাপাড়ার ‘বীর প্রতীক’ লুৎফর রহমান মার্কেটে অবস্থিত এই হোটেলটির মালিক কথিত নাম সালাউদ্দিন। তাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ 0 1753-517822 করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমি বিষয়টি নিয়ে সত্যিই লজ্জিত। আপাতত হোটেলটি বন্ধ রেখেছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমি সজাগ থাকব।”

স্থানীয় একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা জানান, “প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে খুলনা থেকে একটি কালো মাইক্রোবাস হোটেলের সামনে আসে। গাড়ি থেকে নামতে থাকে রঙিন পোশাকে, স্কুলব্যাগ হাতে মেয়েরা। দেখে মনে হয় কোনো স্কুল বা কোচিং সেন্টার। অথচ তারা এখানে আসে দেহ বিক্রির জন্য। সন্ধ্যার দিকে আবার সেই গাড়ি এসে তাদের নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। এই দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

এছাড়াও গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় গোবরা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মুরাদ বিশ্বাস স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে একত্র হয়ে প্রতিবাদ করেন। তিনি জানান, “আমাদের এলাকায় দেহ ব্যবসা, মাদক কিংবা চাঁদাবাজি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হোটেলটির কার্যক্রম বন্ধ ও অনৈতিক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।