ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইউসুফ, সম্পাদক ইলিয়াস জাবেদ কলাপাড়া ধানখালী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত: সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে অধ্যক্ষের মামলা। কলাপাড়ায় আগামীকাল শুরু হবে রাখাইন মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা কলাপাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন ‘আমি আপনাদের সেবক, আপনাদের কর্মচারী’-এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি   কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সজল গাইন বার কাউন্সিলে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ। অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় এ্যাডভোকেট রুবেলের দাফন সম্পন্ন: বিভিন্ন মহলের শোক

দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অপসারণ, জনতার মুখে হাসি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডা. লেলিনের বদলিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ


দীর্ঘদিন ধরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জেএইচ খান লেলিনকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তার বদলির খবরে মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে কলাপাড়া পৌর শহর এবং হাসপাতাল এলাকায় স্থানীয় জনতা আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করে।

জনতার এমন স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি একটি দীর্ঘ সময় ধরে চলা অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডা. লেলিন তার ব্যক্তিগত ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’ ও সংশ্লিষ্ট ল্যাব-ক্লিনিকের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে সিজার অপারেশন, টেস্ট ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবায় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ব্যক্তিগত হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেন, এবং নির্ধারিত ওষুধ ও পরীক্ষার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

ডা. লেলিনের অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় গত কয়েক মাসে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পোস্টারিং ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালিত হয়। বিশেষ করে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কলাপাড়া শাখা’ এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বারবার স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: কলাপাড়ায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে ৮৭০ জন মানুষ স্বাক্ষর করে ডা. লেলিনের অপসারণের দাবি জানায়।

১৮–২১ ফেব্রুয়ারি: শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টারিং ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগের মধ্যে ছিল — সরকারি জায়গার দখল ও বিক্রি, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন।

বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারি কাগজে উল্লিখিত না হলেও, স্থানীয় ও বিভাগীয় প্রশাসনের একাধিক প্রতিবেদন এবং গণদাবির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং তার স্থানে নতুন একজন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে।

বদলির খবরে স্থানীয়রা মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল চত্বর ও পৌর শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। পরে বিভিন্ন মোড়ে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আজকের এই দিনটি কলাপাড়াবাসীর জন্য স্বস্তির, দীর্ঘদিন আমরা দুর্ভোগে ছিলাম।”

শিক্ষার্থী মহাসিন আলম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে গিয়েও আমরা তার প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার হয়ে যেতাম। এটা সেবা না, এটা ছিল ব্যবসা। এখন অন্তত আশার আলো দেখছি।”

ডা. লেলিনের বদলি শুধু একটি ব্যক্তির অপসারণ নয়—এটি এক ধরনের প্রতীকী বিজয়, যা সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদ, গণদাবি ও সোচ্চার কণ্ঠের ফল।
এটি প্রমাণ করে, দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ সচেতন হলে প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এখন কলাপাড়াবাসীর প্রত্যাশা—নতুন চিকিৎসক যেন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে পূর্ণভাবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখেন।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য বিভাগে সচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সারাদেশেই এমন উদাহরণ আরও প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অপসারণ, জনতার মুখে হাসি

আপডেট সময় : ১২:১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

ডা. লেলিনের বদলিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ


দীর্ঘদিন ধরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জেএইচ খান লেলিনকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তার বদলির খবরে মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে কলাপাড়া পৌর শহর এবং হাসপাতাল এলাকায় স্থানীয় জনতা আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করে।

জনতার এমন স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি একটি দীর্ঘ সময় ধরে চলা অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডা. লেলিন তার ব্যক্তিগত ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’ ও সংশ্লিষ্ট ল্যাব-ক্লিনিকের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে সিজার অপারেশন, টেস্ট ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবায় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ব্যক্তিগত হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেন, এবং নির্ধারিত ওষুধ ও পরীক্ষার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

ডা. লেলিনের অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় গত কয়েক মাসে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পোস্টারিং ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালিত হয়। বিশেষ করে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কলাপাড়া শাখা’ এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বারবার স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: কলাপাড়ায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে ৮৭০ জন মানুষ স্বাক্ষর করে ডা. লেলিনের অপসারণের দাবি জানায়।

১৮–২১ ফেব্রুয়ারি: শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টারিং ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগের মধ্যে ছিল — সরকারি জায়গার দখল ও বিক্রি, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন।

বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারি কাগজে উল্লিখিত না হলেও, স্থানীয় ও বিভাগীয় প্রশাসনের একাধিক প্রতিবেদন এবং গণদাবির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং তার স্থানে নতুন একজন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে।

বদলির খবরে স্থানীয়রা মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল চত্বর ও পৌর শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। পরে বিভিন্ন মোড়ে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আজকের এই দিনটি কলাপাড়াবাসীর জন্য স্বস্তির, দীর্ঘদিন আমরা দুর্ভোগে ছিলাম।”

শিক্ষার্থী মহাসিন আলম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে গিয়েও আমরা তার প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার হয়ে যেতাম। এটা সেবা না, এটা ছিল ব্যবসা। এখন অন্তত আশার আলো দেখছি।”

ডা. লেলিনের বদলি শুধু একটি ব্যক্তির অপসারণ নয়—এটি এক ধরনের প্রতীকী বিজয়, যা সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদ, গণদাবি ও সোচ্চার কণ্ঠের ফল।
এটি প্রমাণ করে, দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ সচেতন হলে প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এখন কলাপাড়াবাসীর প্রত্যাশা—নতুন চিকিৎসক যেন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে পূর্ণভাবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখেন।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য বিভাগে সচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সারাদেশেই এমন উদাহরণ আরও প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।