ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইফোন কিনতে বিক্রি করা সেই শিশুকে উদ্ধার, দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তর কলাপাড়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত কলাপাড়ায় আওয়ামীলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম কলাপাড়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষ, আহত-১০ রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার হত্যাকাণ্ড: আদালতে দুই আসামির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ও নেপথ্যের রহস্য গ্রাহকের মৃত্যুতে কিস্তি মওকুফ, পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিল কলাপাড়া ওয়ালটন প্লাজা। কলাপাড়ায় বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা, ১০ জন মেয়ে শিশু পেলো শিক্ষা বৃত্তি। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ: আলোচনায় আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। কলাপাড়ায় অবৈধ ভুসনা জাল বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড, জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২০ মাসে ৩৫ হাজার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল: রিপোর্ট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়েছে। ছবি: আল জাজিরা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। গত প্রায় দুই বছর ধরে টানা বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা করে চলেছে প্রতিবেশি পাঁচটি দেশে।

এক প্রতিবেদন মতে, গত ২০ মাসে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইরান ও ইয়েমেনে ৩৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাহিনী। গাজায় গণহত্যা চালিয়ে হত্যা করেছে নারী ও শিশুসহ ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ভূমি দখল নয়, এই ইসরাইলি আগ্রাসন এখন পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও মানবিক কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছে। অনেকে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের সমন্বিত কূটনৈতিক চেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত বিষয়ক গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রোজেক্টের (এসিএলইডি) তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৩৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনে ১৮ হাজার ২৩৫ বার, লেবাননে ১৫ হাজার ৫২০, সিরিয়ায় ৬১৬, ইরানে ৫৮ আর ইয়েমেনে ৩৯ বার হামলা চালানো হয়।

গাজায় অব্যাহত বর্বর হামলায় এখনও মানুষের প্রাণহানি আর ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরাইল অভিযান চালিয়ে বহু ভবন ধ্বংস করেছে। গত ২০ মাসে সেখানে প্রায় ১ হাজার জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২শ’র বেশি শিশু।

লেবাননে ইসরাইলি হামলা ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ৬শ সংঘর্ষ হয়। যার ৮৩ শতাংশ হামলাই চালায় ইসরাইল। এই লড়াইয়ে হাজার হাজার প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সিরিয়ায় গেল বছরের ডিসেম্বরে আসাদ সরকার পতনের পর থেকে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দেশটির বিমানঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কৌশলগত অবকাঠামোতে প্রায় ২০০ হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল, রাজধানী সানায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইসরাইলের বিমান হামলা বেড়েছে। সবশেষ ইরানে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। এই হামলায় ইরানের কৌশলগত সামরিক স্থাপনা, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে তেল আবিব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের এই আঞ্চলিক সামরিক অভিযান বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলের কাছে থাকা অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে যুদ্ধবিমানগুলো দূরপাল্লার আক্রমণের জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

একই সঙ্গে ইরান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষও পাল্টা আক্রমণে নিজেদের তৈরি রাখছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল করে তুলেছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া অঞ্চলটিতে শান্তি সম্ভব নয় বলে মত বিশ্লেষকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২০ মাসে ৩৫ হাজার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল: রিপোর্ট

আপডেট সময় : ০৯:০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়েছে। ছবি: আল জাজিরা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। গত প্রায় দুই বছর ধরে টানা বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা করে চলেছে প্রতিবেশি পাঁচটি দেশে।

এক প্রতিবেদন মতে, গত ২০ মাসে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইরান ও ইয়েমেনে ৩৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাহিনী। গাজায় গণহত্যা চালিয়ে হত্যা করেছে নারী ও শিশুসহ ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ভূমি দখল নয়, এই ইসরাইলি আগ্রাসন এখন পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও মানবিক কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছে। অনেকে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের সমন্বিত কূটনৈতিক চেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত বিষয়ক গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রোজেক্টের (এসিএলইডি) তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৩৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনে ১৮ হাজার ২৩৫ বার, লেবাননে ১৫ হাজার ৫২০, সিরিয়ায় ৬১৬, ইরানে ৫৮ আর ইয়েমেনে ৩৯ বার হামলা চালানো হয়।

গাজায় অব্যাহত বর্বর হামলায় এখনও মানুষের প্রাণহানি আর ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরাইল অভিযান চালিয়ে বহু ভবন ধ্বংস করেছে। গত ২০ মাসে সেখানে প্রায় ১ হাজার জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২শ’র বেশি শিশু।

লেবাননে ইসরাইলি হামলা ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ৬শ সংঘর্ষ হয়। যার ৮৩ শতাংশ হামলাই চালায় ইসরাইল। এই লড়াইয়ে হাজার হাজার প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সিরিয়ায় গেল বছরের ডিসেম্বরে আসাদ সরকার পতনের পর থেকে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দেশটির বিমানঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কৌশলগত অবকাঠামোতে প্রায় ২০০ হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল, রাজধানী সানায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইসরাইলের বিমান হামলা বেড়েছে। সবশেষ ইরানে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। এই হামলায় ইরানের কৌশলগত সামরিক স্থাপনা, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে তেল আবিব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের এই আঞ্চলিক সামরিক অভিযান বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলের কাছে থাকা অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে যুদ্ধবিমানগুলো দূরপাল্লার আক্রমণের জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

একই সঙ্গে ইরান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষও পাল্টা আক্রমণে নিজেদের তৈরি রাখছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল করে তুলেছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া অঞ্চলটিতে শান্তি সম্ভব নয় বলে মত বিশ্লেষকদের।