পটুয়াখালী-৪ আসনে মন্ত্রিত্বে দেখতে জনমতের কেন্দ্রে এবিএম মোশাররফ হোসেন
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালী–৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। উপকূলীয় এ জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাই বেশি উঠে আসছে তাদের বক্তব্যে।
এবিএম মোশাররফ হোসেন–কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার বলেন, “পটুয়াখালী–৪ একটি সম্ভাবনাময় উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন এবং মৎস্যসম্পদ—সব মিলিয়ে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব থাকলে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।”
পায়রা বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সুমন গাজী বলেন, “পায়রা বন্দরকে ঘিরে শিল্প–বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত তৈরি হচ্ছে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তা জোরদার করতে প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন।”
কুয়াকাটা প্রেসক্লাব–এর সভাপতি তুষার আহমেদ বলেন, “কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সড়ক যোগাযোগ, হোটেল–মোটেল জোন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। মন্ত্রিপর্যায়ে নজরদারি থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।”
কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন বিপু বলেন, কলাপাড়ার উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনে বিমানবন্দরসহ মেগা প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নে
সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবী। মন্ত্রিপর্যায়ে তদারকি থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়, ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ে। এতে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। ঘুরে দাঁড়াবে দক্ষিণ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা।
মৎস্য বন্দর মহিপুরের ব্যবসায়ী ও থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন,মিজান হাওলাদার বলেন, “ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা দরকার। গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোও জরুরি।”
“উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও বেকারত্ব বড় সমস্যা। উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্য নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলে কলাপাড়া উপজেলার উন্নয়নের স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে।”
১১ দলীয় জোটের নেতা জহিরুল আহমেদও একই মত পোষণ করে বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। তিনি মন্ত্রী হলে উপকূলীয় উন্নয়নের গতি বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিত্ব সম্পূর্ণভাবে দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ, মন্ত্রণালয় বণ্টন ও কৌশলগত বিবেচনাও বড় ভূমিকা রাখে।
উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এই আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে টেকসই অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ জীবিকার দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার বিষয়টি এখন পটুয়াখালী–৪ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।









